বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে TVS iQube ইলেকট্রিক স্কুটার 

বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে TVS iQube ইলেকট্রিক স্কুটার 

TVS iQube ইলেকট্রিক স্কুটার এর আপডেটেড ভার্সন বাজারে এসেছে এই বছর । নতুন রং, ফিচার এবং বর্ধিত রেঞ্জ নিয়ে এসেছে এই নতুন ভ্যারিয়াণ্টটি । ২০২২ iQube এখন দুইটি ভ্যারিয়াণ্টে পাওয়া যাচ্ছে একটি হোল স্ট্যান্ডার্ড এবং অপরটি iQube S। S ভ্যারিয়াণ্টে পাচ্ছেন অপেক্ষাকৃত বড় কনসোল যার মধ্যে রয়েছে বেশি ফিচার তাছাড়াও থাকছে কালার অপশন। স্ট্যান্ডার্ড ভ্যারিয়াণ্টে কিছু ফিচার কম পাওয়া যেতে পারে তথাপি এর পারফর্মেন্স আগের চাইতে উন্নত কারণ, এতে যুক্ত হয়েছে আরও বড় ব্যাটারি প্যাক। 

এখন আরও নতুন পরিসর নিয়ে আমাদের সামনে এলো বেইস ভ্যারিয়াণ্টটি যা প্রতিদিনের রাস্তায় স্বচ্ছন্দে চলার জন্য উপযুক্ত। এই স্কুটারটি যেহেতু ইলেকট্রিক স্কুটার তাই পেট্রোল পাওয়ারড স্কুটার এর চাইতে ভাল পারফর্মেন্স উপহার দেবে বলে আশা করা যায় । 

ডিজাইন ও ফিচার

TVS iQube সুন্দর ডিজাইন ও সুন্দর নকশার একটি দুর্দান্ত স্কুটার। ডিজাইনটি যদিও কনভেনশনাল এবং অন্যান্য স্কুটারের মত এগ্রেসিভ লুক নেই তারপরও এটি দেখতে সুন্দর । সু-সমন্বিত , পরিচ্ছন্ন সর্বোপরি স্টাইলিশ ডিজাইনের এই স্কুটারটি আপনার নজর কেড়ে নিতে বাধ্য। ভাল করে তাকালে দেখবেন এর বিল্ড কোয়ালিটি দারুণ এবং ফিনিশিং অনবদ্য। এর সামনে এবং পেছনে থাকা লাইটগুলো যথেষ্ট আধুনিক। সর্বোপরি স্কুটারটির ডিজাইন করা হয়েছে চালকের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে । 

এতে রয়েছে এল ই ডি লাইট । পাশাপাশি পাচ্ছেন এল ই ডি পজিশন ল্যাম্প, টুইন হেড লাইট, এল ই ডি টার্ন ইনডিকেটর এবং এল ই ডি টেইল ল্যাম্প দিয়ে বডির পেছনের অংশ সুন্দর করে ডিজাইন করা। ৫ ইঞ্চি লম্বা ইন্সট্রুমেন্ট কনসোলটি স্ট্যান্ডার্ড ভ্যারিয়াণ্টে আগের মতই আছে যাতে পাওয়া যাবে আরও অধিক ফিচার । এর সাথে পাওয়া যাবে টি ভি এস মোটর কোম্পানির স্মার্ট এক্স কানেক্ট সিস্টেম এর স্মার্টফোন কানেক্টিভিটির অপশন। নিরধারিত মোবাইল অ্যাপ দিয়ে আপনি টার্ন বাই টার্ন নেভিগেশন, জিও ফেন্সিং , রাইড এনালিটিক্স , ইনকামিং কল অ্যালার্ট, সাইড স্ট্যান্ড ইনডিকেশন ,ব্যাটারি লেভেল এবং লো ব্যাটারি ইন্ডিকেশন, ফুয়েল লেভেলসহ পার্ক এসিস্ট্ এবং রিভার্স এসিস্ট। 

স্ট্যান্ডার্ড iQube তিনটি রং এ পাওয়া যাচ্ছেঃ পার্ল হোয়াইট, শাইনিং রেড, এবং টাইটেনিয়াম গ্রে । পক্ষান্তরে যারা তারুণ্যে ভরপুর স্টাইলিশ ডিজাইন পছন্দ করেন তাদের জন্য S ভ্যারিয়াণ্ট নিয়ে এলো তিনটি ভিন্ন রং এর স্কুটারঃ মিণ্ট ব্লু , লুসিড ইয়েলো, এবং কপার ব্রোঞ্জ গ্লসি।

আসন্ন টপ স্পেক ST ভ্যারিয়াণ্টে  আরও চারটি ভিন্ন কালার পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে , যার মধ্যে অন্তত দুটি থাকবে ম্যাট ফিনিশের। বিল্ড কোয়ালিটি এবং ফিনিশিং এর কথা চিন্তা করলে এর মত সেরা ইলেকট্রিক স্কুটার পাওয়া দুষ্কর। তরুণদের কাছে এর ডিজাইন ততটা আকর্ষণীয় মনে না হলেও এ ধরণের স্কুটার পছন্দ করেন এমন ক্রেতার সংখ্যাও কম নয়। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের জন্য এই স্কুটারটি হতে পারে নিত্যদিনের সহচর ।

ব্যাটারি এবং রেঞ্জ 

iQube তে আছে বর্ধিত সক্ষমতার ৩.০৪kWh,৫২V,IP৬৭- rated লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। ইকনমি মোড এ ১০০ কিলোমিটার এবং পাওয়ার মোড এ ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে সক্ষম এই স্কুটারটি। ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং কন্ট্রোলার ডেভেলপ করেছে টি ভি এস এর ইন-হাউস টিম। iQube ০-৮০ শতাংশ চার্জ হতে সময় নেবে ৪.৫ ঘণ্টা। চার্জ দেয়ার জন্য একটি ৬৫০ W এর চার্জার প্রয়োজন হবে।

এর উন্নত ভ্যারিয়াণ্টে  আরও বেশি ফিচার থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে। যেমন টপ স্পেক iQube ST ভ্যারিয়াণ্টটি যেটি বাজারে আসবে তাতে একবার চার্জ দিয়ে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাওয়া যাবে। iQube ST 950 W চার্জার দিয়ে চার্জ করতে সময় লাগবে মাত্র ২.৫ ঘণ্টা। 

মসৃণ রাইডের অনুভূতি দেয়ার জন্য iQubeতে IP 67 রেটের ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়েছে। এর ভেতরের আর্কিটেকচার ও এমনভাবে তৈরি যাতে শর্ট সার্কিট হলে কিংবা হাই/লো ভোল্টেজে কোন ধরণের সমস্যা না হয় ।

পারফর্মেন্স

আপনার নিত্যদিনের যাতায়াতের জন্য iQubeর মত দুর্দান্ত স্কুটার বিরল। এর ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৪.৪ kW এবং ০-৪০ kmph গতি তুলতে সময় লাগবে মাত্র ৪.২ সেকেন্ড। চোখের পলকেই হয়ত গতি উঠবে না কিন্তু যানজট পূর্ণ রাস্তায় অন্যান্য গাড়ির চাইতে ভালই গতি তুলতে সক্ষম হবে এই স্কুটারটি।

স্পেসিফিকেশন

স্পেসিফিকেশন
সর্বোচ্চ ক্ষমতা 4.4 kW
সর্বোচ্চ টর্ক140Nm
ব্যাটারিলিথিয়াম-আয়ন 3.04 kWh
রেঞ্জইকো-100 km, স্পোর্ট-75 km
টপ স্পিড78 kmph
০-৪০ kmph4.2 sec
০-৮০% চার্জিং টাইম4 ঘণ্টা 30 মিনিট (650W চার্জার )

যদিও সর্বোচ্চ ৭৮ kmph গতি উঠাতে সক্ষম এই স্কুটার তথাপি টেস্ট রাইডের সময় ৮৩ kmph ও এর গতি উঠতে দেখা গেছে। পাওয়ার মোড দিয়ে সহজেই গড়ে ৭৯ kmph গতি তোলা সম্ভব। শহরের বাইরে ফাঁকা রাস্তায় এই স্কুটার চালানোর সময় হয়ত আপনি আরও বেশি গতি পেতে পারেন। সর্বোপরি,শহুরে রাস্তায় প্রতিদিন চলাচলের জন্য iQube চাহিদা অনুযায়ী যথেষ্ট ভাল পারফর্মেন্স দিতে সক্ষম। 

রাইড এবং নিয়ন্ত্রণ 

iQube এর সবচেয়ে দুর্দান্ত ব্যাপারটি হচ্ছে এই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই সহজ এবং চালাতেও আরাম। এতে রয়েছে প্রশস্ত ফুটবোর্ড, প্রশস্ত এবং আরামদায়ক সিট, চমৎকার সাস্পেনশন যার কারণে আপনি যেকোনো ধরণের রাস্তায় এই স্কুটারটি নিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন। ১২ ইঞ্চি চাকার সামনে আছে টেলিস্কপিক ফ্রন্ট ফর্কস, ২২০ মিলিমিটার এর ফ্রন্ট ডিস্ক ব্রেক এবং টুইন রিয়ার শকস। রাইড কোয়ালিটি দুর্দান্ত। আরামের কথা চিন্তা করলে iQube আপনাকে নিরাশ করবে না।

খারাপ রাস্তায়ও এর রাইড কোয়ালিটি আপনাকে হতাশ করবে না। চালানোর সময় বডি প্যানেলে কোন বিরক্তিকর শব্দ করবে না। টি ভি এস মোটর কোম্পানির বিশেষজ্ঞগণ তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে একটি উন্নত চেসিস ডিজাইন করেছেন। সুনিপুন ক্ষমতা থাকার কারণে iQube এর নিয়ন্ত্রণে কোন বেগ পেতে হয় না। তাছাড়া এর টায়ারের গ্রিপ সক্ষমতাও দারুণ।

ভ্যারিয়াণ্ট এবং মূল্য 

বাংলাদেশে iQube Standard Variant এর মূল্য ধরা হয়েছে ১,১৫,০০০ টাকা ( চার্জার ব্যতিত)। এর চাইতে ১০,০০০ টাকা বেশি দিলে আপনি আরও কালার অপশন এবং ৭ ইঞ্চি ইন্সট্রুমেন্ট কনসোলের সাথে আরও ফিচার নিয়ে পাচ্ছেন iQube S variant  । এর পরের ভার্সন যেটি বাজারে আসবে অর্থাৎ iQube ST সেটাতে আপনি ১৪০ km  এর মত রেঞ্জ পাবেন। 

চূড়ান্ত মূল্যায়ন 

TVS iQube নিঃসন্দেহে মনে ছাপ রেখে যাওয়ার মত একটি স্কুটার। টেস্ট রাইডের সময় আমরা প্রত্যাশিত রেঞ্জ পেয়েছি। ইকো এবং পাওয়ার দুই মোডেই যতটুকু পাওয়ার পাওয়া যায় তা নিত্যদিনের যাতায়াতের জন্য যথেষ্ট। একবার ফুল চার্জ দিয়ে কোন ফাস্ট চার্জিং নেটওয়ার্ক ছাড়াই একদিনে শহরে আমরা প্রায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত সহজেই যেতে পেরেছি । সারাদিন রাইড শেষ করার পরেও আরও ৩২ কিলোমিটার পর্যন্ত যাওয়ার সক্ষমতা ছিল এই স্কুটারটির।  

যদি আপনি বিদ্যুৎ চালিত স্কুটারের খোঁজ করে থাকেন তাহলে iQube র চাইতে ভাল স্কুটার সম্ভবত পাবেন না। সেরা ৫ টি ইলেকট্রিক বাইকের লিস্ট করা হলে এই স্কুটারটি অনায়াসে নিজের স্থান করে নিতে পারবে বলে আমরা মনে করি ।



Leave a comment

Your email address will not be published.