১২৫ সেগেমেন্টে কেটিএম-ই সেরা

১২৫ সেগেমেন্টে কেটিএম-ই সেরা

কেটিএম (KTM) হল বিশ্বের একটি সুপরিচিত এবং জনপ্রিয় মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড। এটি অফ-রোড এবং স্পোর্টস বাইকের জন্য বিশ্বব্যাপী খুবই জনপ্রিয়। এই ব্র্যান্ডটি তার দুর্দান্ত মোটরসাইকেল দিয়ে একটি বিশাল মার্কেটপ্লেস তৈরি করেছে। কেটিএম বিশ্বব্যাপী আধুনিক স্পোর্টস বাইক বা মোটরসাইকেলের অন্যতম প্রধান নির্মাতা। এটি একটি অস্ট্রিয়ান মোটরসাইকেল কোম্পানি এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্পোর্টস মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক। কোম্পানিটি দুর্দান্ত ডার্ট এবং অফ-রোড বাইক, নেকেড স্পোর্টস বাইক এবং সম্পূর্ণ পারফরম্যান্স-ভিত্তিক স্পোর্টস বাইক তৈরি এবং বাজারজাত করে।কালো এবং কমলা কেটিএম মোটরসাইকেলের প্রতীক।

বাংলাদেশে কেটিএম মোটরসাইকেল ২০১৭ সাল থেকে বিক্রি হচ্ছে। যদিও প্রায় সারা বিশ্বে কেটিএম বাইকের একটি বড় মার্কেট শেয়ার রয়েছে, কিন্তু ইঞ্জিন সিসি সীমার কারণে বাংলাদেশের বাজারে কেটিএম এর মাত্র কয়েকটি মডেল পাওয়া যায়। বাংলাদেশের বাজারে এই  বাইকের দাম বেশি। তাই, অল্প সংখ্যক লোকই কেটিএম বাইক কেনার সামর্থ্য রাখে। এখানে কেটিএম বাইকের দাম নিয়েও সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে কেটিএম-এর একটি সীমিত লাইনআপ, কেটিএম ডিউক এবং আরসি সিরিজ রয়েছে। বাংলাদেশে ১২৫ সিসি সেগমেন্টে বেশ কিছু জনপ্রিয় ব্র্যান্ড আছে, যেমন, হোন্ডা সিবি সাইন এসপি, সুজুকি বার্গম্যান, সুজুকি এক্সেস, সুজুকি জিএসএক্স, ইয়ামাহা স্যালুট, টিভিএস ম্যাক্স, রানার টার্বো, হিরো ইগনিটোর, হিরো গ্ল্যামার, বাজাজ ডিসকভার, ইত্যাদি। কিন্তু ১২৫ সেগেমেন্টে কেটিএম-ই সেরা। কেটিএম বাইকের ইঞ্জিন পাওয়ার এবং ম্যাক্সিমাম টর্ক, এটিকে অন্য সব বাইক থেকে আলাদা করে দিয়েছে।

কেটিএম ব্র্যান্ড

কেটিএম গ্রুপের অধীনে, KTM AG হল একটি অস্ট্রিয়ান মোটরসাইকেল এবং স্পোর্টস কার প্রস্তুতকারক, যার মালিক KTM Industries AG এবং ভারতীয় মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক বাজাজ অটো। তাই, কেটিএম মোটরসাইকেল হল কেটিএম ইন্ডাস্ট্রিজ এজি এবং বাজাজ অটো, একটি ভারতীয় মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারকের সংমিশ্রণ। কেটিএম ২০১২ সাল থেকে টানা চার বছর ধরে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক।

কেটিএম এর কিছু অফ-রোড মোটরসাইকেল মডেল যেমন এন্ডুরো, মটোক্রস এবং সুপারমোটোর জন্য বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। ৯০এর দশকে এটি বাজারে পরিচিতি পেতে শুরু করে, এবং সারা বিশ্বে বিপণন করা শুরু করে।

কেটিএম ব্র্যান্ড শুধুমাত্র একটি স্পোর্ট বাইক বা মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক হিসেবেই প্রশংসিত নয়, বরং এর স্পোর্ট কার সেগমেন্টেও বিশ্বব্যাপী তাদের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। এখন বিশ্বব্যাপী, ব্র্যান্ডটি শীর্ষস্থানীয় অফ-রোড মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক।

কোম্পানি ইতিহাস

KTM AG (Kraftfahrzeug Trunkenpolz Mattighofen, পূর্বে KTM Sportmotorcycle AG) হল একটি অস্ট্রিয়ান মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল এবং স্পোর্টস কার প্রস্তুতকারক। এটি ১৯৩৪ সালে অস্ট্রিয়াতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং  সদর দপ্তর ম্যাটিঘোফেন। ১৯৯২ সালে, এই কোম্পানিটি তার মূল কোম্পানি KTM AG থেকে আলাদা হয়ে যায়। বর্তমানে, KTM AG হল কেটিএম গ্রুপের মূল কোম্পানি, যেটি বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত। এখন এই কোম্পানির মালিক পিয়েরার মোবিলিটি এজি এবং ভারতীয় নির্মাতা বাজাজ অটো। এশিয়া অঞ্চলের জন্য দামের পরিসর কমাতে, বাজাজ অটো ইতিমধ্যেই ভারতে কেটিএম মোটরসাইকেল তৈরি করতে শুরু করেছে।

২০১২ থেকে, কেটিএম টানা চার বছর ধরে ইউরোপের বৃহত্তম মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক ছিল। ২০১৫ সালে, কেটিএম সবচেয়ে বেশি অফ-রোড বাইক বিক্রি করেছিল। বিশ্বব্যাপী, কোম্পানিটি অফ-রোড মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারকদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয়। ২০১৬ সালে, কেটিএম বিশ্বব্যাপী ২০৩,৪২৩ টি মোটর গাড়ি বিক্রি করেছে।

বাংলাদেশে উপলব্ধ কয়েকটি কেটিএম বাইকের দাম

কেটিএম বাইকের দাম বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক বেশি। স্পিড লিমিট থাকার কারণে এই ধরণের বাইকের হাইয়ার সিসি মডেল বাংলাদেশে আমদানি করাও সম্ভব না। ফলে বাংলাদেশে কেটিএম ব্রান্ড বাইকের  বিক্রি ও প্রসার বাড়ছে না। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে মাত্র কয়েকটি কেটিএম মোটরসাইকেল মডেল পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশে শুধুমাত্র অপেশাদার বাইকারদেরই সংগ্রহে এমন উচ্চমানের বাইক রয়েছে। দেশে কেটিএম শোরুম, সেলস পয়েন্ট এবং সার্ভিস সেন্টার খুব কমই আছে। মোটরসাইকেল ওয়ার্ল্ড লিমিটেড বাংলাদেশে কেটিএম বাইকের প্রধান আমদানিকারক। সম্প্রতি রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড বাংলাদেশে কেটিএম মোটরসাইকেলের তিনটি মডেল লঞ্চ করেছে এবং পরিবেশক হয়েছে।

পার্থক্য – কেটিএম ডিউক এবং কেটিএম আরসি (ইউরোপীয় ভার্সেস ইন্ডিয়ান)

বাংলাদেশে কেটিএম ডিউকের দুটি সংস্করণ রয়েছে। একটি ভারতীয় সংস্করণ এবং অন্যটি ইউরোপীয় সংস্করণ। যদিও এই বাইকগুলির ইঞ্জিন ডিসপ্লেসমেন্ট এবং পাওয়ারট্রেন একই, তবে বৈশিষ্ট্য এবং আউটলুকের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন রয়েছে। তাই তাদের মূল্য ট্যাগের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। কেটিএম ডিউকের ইউরোপীয় সংস্করণের দাম ভারতীয় সংস্করণের চেয়ে কিছুটা বেশি।

কেটিএম আরসি ১২৫, ভারতীয় এবং ইউরোপীয় সংস্করণের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে যার মধ্যে কেটিএম আরসি ১২৫ ভারতীয় সংস্করণের ওজন ১৫৪ কেজি যা ইউরোপীয় সংস্করণের তুলনায় প্রায় ১৫+ কেজি ভারী। কেটিএম আরসি ১২৫-এর ভারতীয় সংস্করণে একটি সারি গার্ড, একটি গ্র্যাব হ্যান্ডেল এবং একটি টায়ার হুগার  রয়েছে, যা ইউরোপীয় সংস্করণে নেই। ভারতীয় সংস্করণটি বাজাজ তৈরি করছে।  কেটিএম আরসি ১২৫ এর ইউরোপীয় সংস্করণটি ভারতীয় সংস্করণের চেয়ে কিছুটা ব্যয়বহুল।

কেটিএম ডিউক ১২৫ শুধুমাত্র এশিয়ায় নয়, ইউরোপ অঞ্চলেও সেরা এন্ট্রি-লেভেল নেকেড স্পোর্টস মোটরসাইকেল হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে কেটিএম ডিউক ১২৫ এর দুটি সংস্করণ চালু করা হয়েছে৷ আপনি যদি ভালোভাবে লক্ষ্য করেন তবে আপনি এই দুটির মধ্যে কিছু পার্থক্য দেখতে পাবেন৷

ইউরোপীয় সংস্করণ ডিজাইনের দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফুয়েল ট্যাঙ্ক এবং সামনের এক্সটেনশন কিটটি ভারতীয় সংস্করণের চেয়ে বেশি বড়ো এবং চটকদার দেখায়। অন্যান্য প্রধান পরিবর্তন হল এর হেডলাইট ইউনিট এবং দৃশ্যমান ট্রেলিস ফ্রেম। এই হেডলাইট ইউনিটটি কেটিএম-এর সিগনেচার লুক বহন করে এবং স্নেক ফ্যাং ডিআরএল সহ এলইডি লাইট দিয়ে সজ্জিত।

কেটিএম ডিউকের ভারতীয় সংস্করণ একই ইঞ্জিন এবং পাওয়ারট্রেন বহন করে, তবে এটি ইউরোপীয় সংস্করণ থেকে ভিন্ন দেখায়। ফুয়েল ট্যাঙ্কের ডিজাইন দেখতে স্ট্যান্ডার্ড কিন্তু এক্সটেনশন কিটটি ইউরোপীয়ানের মতো খুব বেশি তীক্ষ্ণ নয়। তবে এটি কমলা রঙের রিমের জন্যে একটি অসামান্য লুক পায়। এই সংস্করণের সর্বশেষ পরিবর্তন ড্যাশবোর্ড, যেখানে একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড রয়েছে।

ইন্ডিয়া-স্পেক সংস্করণ আইকনিক ফাইবার জ্বালানী ট্যাঙ্ক এবং বেসিক ফ্রেম রয়েছে।  ইউরো-স্পেক মোটরসাইকেলটিতে ১৩.৪-লিটার ক্ষমতা সহ একটি স্টিলের জ্বালানী ট্যাঙ্ক রয়েছে।  ইন্ডিয়া-স্পেক মডেলটি ১০.৫-লিটার ফুয়েল ট্যাঙ্ক রয়েছে। 

ইউরো-স্পেক ১২৫ ডিউক সম্পূর্ণ এলইডি হেডলাইট সংযুক্ত করা আছে। ইন্ডিয়া-স্পেক মডেল একটি হ্যালোজেন হেডলাইট সংযুক্ত করা আছে।এর ফলে ভারতে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের ডিউক মডেলের জন্য খরচ বৃদ্ধি এড়ানো হয়েছে।

KTM RC 125 Duke (European)

মূল্য: ৪৮০,০০০-৪৯৯,০০০

কেটিএম ডিউক ১২৫ হল অস্ট্রিয়ান বাইক নির্মাতা কেটিএম-এর একটি ইন্ট্রোডাক্টরি বাইক। এটি একটি স্পোর্টস বাইক যা শক্তিশালী ইঞ্জিন, গর্জিয়াস স্টাইল, মসৃণ স্পোর্টিভ লুক, মার্ভেলাস রঙ এবং রাজকীয় ডিজাইনের একটু অসাধারণ সমন্বয়। বাংলাদেশে এই মডেলটি খুব কম পাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর দাম প্রায় আকাশচুম্বী হলেও, পছন্দের তালিকায় এটি প্রথম দিকেই থাকে, এবং অনেকেই তাদের সংগ্রহে রাখেন।

এই বাইকটিতে ১২৪.৭ সিসি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ৪-স্ট্রোক ইঞ্জিন এবং ওয়াটার-কুলড। এর সর্বোচ্চ শক্তি হল ১৪.৭৫ বিএইচপি @ ৯৫০০ আরপিএম এবং সর্বোচ্চ টর্ক ১১.৮০ Nm @ ৮০০০ আরপিএম। এটি ৬-স্পীড ম্যানুয়াল গিয়ার ব্যবহার করে এবং এর সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘন্টায় ১২০+ কিলোমিটার। ১৩.৫ লিটার জ্বালানী ক্ষমতা সম্পন্ন বাইকটি প্রতি লিটার জ্বালানীতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে সক্ষম।

১. ইঞ্জিন সিসি: ১২৫ সিসি, কুলড, ৪-স্ট্রোক, ৪-ভালভ

২. লিটার প্রতি মাইলেজ: ৩০-৩৫ কিমি/লিঃ

৩. সর্বোচ্চ গতির ক্ষমতা: ১২৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা (প্রায়..)

৪. সর্বোচ্চ শক্তি: ১৪.৭৫ বিএইচপি @ ৯৫০০ আরপিএম

৫. সর্বোচ্চ টর্ক: ১১.৮০ NM @ ৮০০০ আরপিএম

৬. ব্রেক: ডুয়াল চ্যানেল (এবিএস)

৭. টায়ারের ধরন: টিউবলেস

৮. ব্রেক স্টাইল: সামনে: ডিস্ক এবং রিয়ার: ডিস্ক

KTM RC 125 (European)

মূল্য:৪৭০,০০০ (ডুয়েল এবিএস)

কেটিএম আরসি ১২৫ হল অস্ট্রিয়ান বাইক নির্মাতা কেটিএম-এর আরসি সিরিজের একটি বাইক। এটি স্মার্ট লুকিং এবং ড্যাশিং স্পোর্টস বাইক। বাইকটি বিশ্বব্যাপী দারুন জনপ্রিয়।

বাইকটিতে ১২৪ সিসি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভার্টিক্যাল সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, লিকুইড-কুলড এবং ৪-স্ট্রোক এর সমন্বয়ে তৈরী। এর সর্বোচ্চ শক্তি হল ১৪.৮ বিএইচপি @ ৯০০০ আরপিএম এবং সর্বোচ্চ টর্ক হল ১৪ Nm @ ৮০০০ আরপিএম। এটিতে ৬-স্পীড ম্যানুয়াল গিয়ার রয়েছে এবং এর সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘন্টায় ১২৫+ কিলোমিটার। ১৪ লিটার জ্বালানী ক্ষমতা সম্পন্ন বাইকটি প্রতি লিটার জ্বালানীতে গড়ে প্রায় ৩৫-৪০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে সক্ষম। এর সামনে এবং পিছনে উভয়ই ডিস্ক ব্রেক।

১. ইঞ্জিন সিসি: ১২৪.৭ সিসি, কুলড, ৪-স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার

২. লিটার প্রতি মাইলেজ: ৩৫ কিমি/লিঃ

৩. সর্বোচ্চ গতির ক্ষমতা: ১২৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা (প্রায়..)

৪. সর্বোচ্চ শক্তি: ১৪.৮ বিএইচপি @ ৯০০০ আরপিএম

৫. সর্বোচ্চ টর্ক: ১১.৮০ NM @ ৮০০০ আরপিএম

৬. ব্রেক: ডুয়াল চ্যানেল (এবিএস)

৭. টায়ারের ধরন: টিউবলেস

৮. ব্রেক স্টাইল: সামনে: ডিস্ক এবং রিয়ার: ডিস্ক

KTM Duke 125 (Indian)

মূল্য: ৩৩০,০০০৩৫৫,০০০ (ডুয়েল এবিএস)

কেটিএম ডিউকের ভারতীয় সংস্করণ একই ইঞ্জিন এবং পাওয়ারট্রেন রয়েছে, তবে এটি ইউরোপীয় সংস্করণ থেকে ভিন্ন দেখায়। ফুয়েল ট্যাঙ্কের ডিজাইন দেখতে স্ট্যান্ডার্ড কিন্তু এক্সটেনশন কিটটি ইউরোপীয়ানের মতো খুব বেশি তীক্ষ্ণ নয়। এটির কমলা রঙের রিম একটি গর্জিয়াস লুক দেয়। এই সংস্করণের সর্বশেষ পরিবর্তন ড্যাশবোর্ড।

এই বাইকটিতে ১২৪.৭ সিসি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ৪-স্ট্রোক ইঞ্জিন এবং ওয়াটার-কুলড। এর সর্বোচ্চ শক্তি হল ১৪.৭৫ বিএইচপি@ ৯৫০০ আরপিএম এবং সর্বোচ্চ টর্ক ১১.৮০ Nm @ ৮০০০ আরপিএম। এটি ৬-স্পীড ম্যানুয়াল গিয়ার ব্যবহার করে এবং এর সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার। ১৩.৪ লিটার জ্বালানী ক্ষমতা সম্পন্ন বাইকটি প্রতি লিটার জ্বালানীতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে সক্ষম।

১. ইঞ্জিন সিসি: ১২৪.৭ সিসি, কুলড, ৪-স্ট্রোক, ৪-ভাল্ভ 

২. লিটার প্রতি মাইলেজ: ৩৫-৪৫ কিমি/লিঃ

৩. সর্বোচ্চ গতির ক্ষমতা: ১২০ কিমি প্রতি ঘণ্টা (প্রায়..)

৪. সর্বোচ্চ শক্তি: ১৪.৩ বিএইচপি @ ৯৫০০ আরপিএম

৫. সর্বোচ্চ টর্ক: ১২ NM @ ৮০০০ আরপিএম

৬. ব্রেক: ডুয়াল চ্যানেল (এবিএস)

৭. টায়ারের ধরন: টিউবলেস 

KTM RC 125 (Indian)

মূল্য: ৩৯০,০০ ৪০০,০০০ (ডুয়েল এবিএস)

কেটিএম আরসি ১২৫-এর ভারতীয় সংস্করণে একটি সারি গার্ড, একটি গ্র্যাব হ্যান্ডেল এবং একটি টায়ার হুগার  রয়েছে, এতে আইকনিক ফাইবার-ভিত্তিক জ্বালানী ট্যাঙ্ক, বেসিক ফ্রেম এবং কমলা চাকার সাথে একটি রাজকীয় লুক দেয়। । এটি সামগ্রিক নকশা এবং শৈলীর দিক থেকে ডিউক ২০০এর মতো।

বাইকটিতে ১২৪.৭ সিসি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভার্টিক্যাল সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, লিকুইড-কুলড এবং ৪-স্ট্রোক। এর সর্বোচ্চ শক্তি হল ১৪.৮ বিএইচপি @ ৮৫০০ আরপিএম এবং সর্বোচ্চ টর্ক হল ১৪Nm @ ৭০০০ আরপিএম। এটি ৬-স্পীড ম্যানুয়াল গিয়ার ব্যবহার করে এবং এর সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘন্টায় ১৩৫ কিলোমিটার। ১৪ লিটার জ্বালানী ক্ষমতা সম্পন্ন বাইকটি প্রতি লিটার জ্বালানীতে গড়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে সক্ষম। এর সামনে এবং পিছনে উভয়ই ডিস্ক ব্রেক।

১. ইঞ্জিন সিসি: ১২৪.৭ সিসি, কুলড, ৪-স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার

২. লিটার প্রতি মাইলেজ: ৪০-৪২ কিমি/লিঃ

৩. সর্বোচ্চ গতির ক্ষমতা: ১২৫-১৩৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা (প্রায়..)

৪. সর্বোচ্চ শক্তি: ১৪.৮ বিএইচপি @ ৮৫০০ আরপিএম

৫. সর্বোচ্চ টর্ক: ১৪.৮ NM @ ৭০০০ আরপিএম

৬. ব্রেক: ডুয়াল চ্যানেল (এবিএস)

৭. টায়ারের ধরন: টিউবলেস 

সংক্ষিপ্ত তালিকা আকারে: বাংলাদেশে কেটিএম বাইকের দাম (অগাস্ট, ২০২২ আপডেট)

Bike Name Engine (CC) Mileage Price in BD
KTM Duke 125 (European) 125 cc 35-40 Kmpl 480,000 – 499,000
KTM RC 125 (European) 124.7 cc 35-36 Kmpl 470,000
KTM Duke 125 (Indian) 125 cc 35-40 Kmpl 330,000-355,000
KTM RC 125 (Indian) 124.7 cc 35-40 Kmpl 390,00- 400,000

 

সরকার যদি গতিসীমা বাড়ায় তাহলে বাংলাদেশে কিছু ৩৫০ সিসি কেটিএম বাইক আমদানি বা এসেম্বল হতে পারে:

কেটিএম বাইরের দেশগুলোতে বেশ জনপ্রিয়, কিন্তু আমাদের দেশে কেটিএম বাইক খুব বেশি দেখা যায় না। ৩৫০ সিসির পারমিশন পেলে নতুন নতুন সব বাইকের দেখা আমাদের দেশেও পাওয়া যাবে। ৩৫০ সিসির অনুমতি পেলে কেটিএম এর যেসব বাইক আমাদের দেশে আসতে পারে, কিছু আলোচনা করা যাক –

  •         KTM 200 DUKE

বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 199.5 cc এর লিকুইড কুলড ইঞ্জিন, যার ম্যাক্সিমাম পাওয়ার 26Hp। ব্রেকিং সিস্টেমে রয়েছে সিংগেল চ্যানেল BOSCH ABS । বাইকটির সামনে ব্যবহার করা হয়েছে 110/70 x 17 সেকশন টায়ার এবং পেছনে ব্যবহার করা হয়েছে 150/60 x 17 সেকশন টায়ার এবং উভয় চাকা টিউবলেস।

  •         KTM 250 DUKE (BS6)

বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 248.8 cc লিকুইড কুলড ইঞ্জিন, যার ম্যাক্সিমাম পাওয়ার 30 PS @ 9000 rpm এবং ম্যাক্সিমাম টর্ক 24 Nm @ 7500 rpm। ব্রেকিং সিস্টেমে যুক্ত রয়েছে Dual Channel ABS । বাইকটির সামনে ব্যবহার করা হয়েছে 110/70-17 সেকশন টায়ার এবং পেছনে ব্যবহার করা হয়েছে 150/60-17 সেকশন টায়ার এবং উভয় চাকা টিউবলেস।

  •         KTM 250 ADVENTURE (BS6)

এই বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 248.76 CC এর সিংগেল সিলিন্ডার ইঞ্জিন , ইঞ্জিনটির ম্যাক্সিমাম পাওয়ার 30 PS @ 9000 rpm এবং ম্যাক্সিমাম টর্ক 24 Nm @7500 rpm । বাইকটির ওজন ১৭৭ কেজি এবং ব্রেকিং সিস্টেমে রয়েছে Dual Channel ABS । বাইকটির সামনে ব্যবহার করা হয়েছে 100/90-19 সেকশন টায়ার এবং পেছনে ব্যবহার করা হয়েছে 130/80-17 সেকশন টায়ার।

  •         KTM 250 EXC-F 2021

বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 249.91 সিসির ৪ স্ট্রোক ইঞ্জিন। বাইকটিতে ইলেক্ট্রিক স্টার্ট রয়েছে কিন্তু কিক স্টার্ট নেই। ২৫০ সিসির বাইক হলেও বাইকটির ওজন 103 কেজি। বাইকটিতে উভয় চাকায় ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে।

  •         KTM 250 SX-F

বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 249.9cc এর লিকুইড কুলড ইঞ্জিন, সাথে রয়েছে ৫ স্পীড গিয়ারবক্স। বাইকটির সামনে ব্যবহার করা হয়েছে 80/100-21 সেকশন টায়ার এবং পেছনে ব্যবহার করা হয়েছে 110/90-19 সেকশন টায়ার।

  •         KTM RC 200

বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 199.5 cc এর লিকুইড কুলড ইঞ্জিন। ইঞ্জিনটির ম্যাক্সিমাম পাওয়ার 24.6 bhp @ 10,000 rpm এবং ম্যাক্সিমাম টর্ক 19.2 Nm @ 8,000 rpm । বাইকটিতে ৬ স্পীড গিয়ারবক্স রয়েছে। বাইকটিতে সামনের দিকে ব্যবহার করা হয়েছে USD সাসপেনশন এবং পেছনের দিকে Monoshock সাসপেনশন।

 

পরিশেষে বলা যায়, কেটিএম বাইক বিশ্বের অন্যতম প্রিমিয়াম মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড। স্পোর্টস রাইডিং বাইক হিসেবে এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। বাইক গুলোর টপ ক্লাস ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাপাসিটি, নকশা এবং প্রযুক্তি, অন্যান্য ব্রান্ডের বাইক থেকে ব্যতিক্রমী স্টাইল এবং ফ্যাসিনেশন তৈরী করেছে।



Leave a comment

Your email address will not be published.