অনলাইন বাইক রেজিস্ট্রেশন – কীভাবে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন যাচাই করবেন?

অনলাইন বাইক রেজিস্ট্রেশন – কীভাবে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন যাচাই করবেন?

বাইক রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করার পর মোটরবাইক সংক্রান্ত যে কোন আপডেট নেয়ার জন্য আগে সংশ্লিষ্ট BRTA অফিসে ছুটে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিলো না। কিন্তু এখন ঘরে বসে অনলাইনে মোটরবাইকের রেজিস্ট্রেশন যাচাই করতে পারবেন নিজেই। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চেক, ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক, ভুয়া লাইসেন্স যাচাই সহ আরো কিছু খুটি নাটি বিষয়ে জানবো।

মোটরবাইক রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম

প্রথমত, সংশ্লিষ্ট BRTA অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মোটরবাইক রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। এরপর BRTA অফিস তার আবেদন ও যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখবে, এবং সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে গ্রাহককে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়ার জন্য একটি অ্যাসেসমেন্ট স্লিপ দেয়া হবে।

ফি জমা দেয়ার পর মোটরসাইকেলটি পরিদর্শণের জন্য BRTA অফিসে এনে হাজির করতে হবে। বাইকটি পরিদর্শনের পর এর মালিকানা ও বাইক সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য BRTA ইনফরমেশন সিস্টেমে এন্ট্রি করা হয়। তারপর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) রেজিস্টেশনের অনুমোদন দিবেন এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরসহ একটি প্রাপ্তিস্বীকারপত্র, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স টোকেন প্রিন্ট করে গ্রাহককে দেয়া হয়।

ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (DRC) তৈরীর জন্য গ্রাহককে তার বায়োমেট্রিক্স- অর্থাৎ ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ, ইত্যাদি দেয়ার জন্য BRTA অফিসে হাজিরা দেয়ার নোটিশ হিসেবে গ্রাহক তার মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস পাবেন। বায়োমেট্রিক্স দেয়ার পর DRC নেয়ার জন্য গ্রাহক আবার একটি এসএমএস পাবেন।

বাইকের রেজিস্ট্রেশন আবেদনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে

  1. মালিক ও ডিলার কর্তৃক যথাযথভাবে পূরণ ও স্বাক্ষর করা নির্ধারিত আবেদনপত্র। BRTA ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করে বা BRTA অফিস হতে এই আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে। বাইক মালিকের সাম্প্রতিক ২ কপি পাসপোর্ট ছবি দিতে হবে।
  2. বিল অব এন্ট্রি, ইনভয়েস ও এলসিএ কপি।
  3. সেল সার্টিফিকেট /বিক্রয়ের তথ্য /বিক্রয়ের প্রমাণপত্র (বিক্রেতা প্রদত্ত)।
  4. প্যাকিং লিস্ট, ডেলিভারি চালান ও গেইট পাস।
  5. অগ্রিম/অনুমিত আয়কর দেয়ার প্রমাণপত্র।
  6. বিদেশি নাগরিকের নামে রেজিস্ট্রেশন/মালিকানা বদলি হলে বাংলাদেশের ওয়ার্ক পারমিট এবং ভিসার মেয়াদের কপি।
  7. নির্ধারিত কাস্টমস অফিস থেকে সত্যায়িত করা বডি ভ্যাট চালান ও ভ্যাট পরিশোধের চালান (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  8. প্রস্তুতকারক/ BRTA কর্তৃক অনুমোদিত বাইকের বডি ও সিট ব্যবস্থার স্পেসিফিকেশন সম্বলিত ড্রইং (যেকোনো মোটরযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)।
  9. প্রযোজ্য রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়ার রসিদ।
  10. ব্যক্তি মালিকানাধীন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র/ পাসপোর্ট/ ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদির যেকোনোটির সত্যায়িত ফটোকপি এবং মালিক কোনো প্রতিষ্ঠান হলে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেদনপত্র।
  11. নিলামে ক্রয়কৃত মোটরবাইকের ক্ষেত্রে লগবুকে উল্লেখ করা প্রস্তুতকাল ও প্রস্তুতকারকের বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদত্ত ছাড়পত্র, নিলাম সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং মেরামতের বিস্তারিত বিবরণ।
  12. BRTA মোটরবাইক পরিদর্শকের দেয়া বাইকটির পরিদর্শন প্রতিবেদন, এবং ক্রয়ের সময় বিক্রেতার পক্ষ থেকে দেয়া সকল কাগজপত্র।

BRTA অনলাইন বাইক রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করার পদ্ধতি

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন যাচাই ও DRC গ্রহন

বাইকের রেজিস্ট্রেশন করার পর ডিজিটাল নাম্বার প্লেট এসেছে কি না অথবা কোন পর্যায়ে আছে সেটা অনলাইনে জানার জন্য আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন NP এবং পাঠিয়ে দিন 26969 নাম্বারে।

মোটরসাইকেলের ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট অর্থাৎ স্মার্টকার্ড তৈরি হয়েছে কিনা সেটা জানার জন্যও অনলাইন সেবা রয়েছে। আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন NP<Space>DRC লিখে পাঠিয়ে দিন 26969 নাম্বারে।

শুধুমাত্র ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল অফিসে আরো দু’টি এসএমএস সেবা রয়েছে।

  1. ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক্স দেয়ার এ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে NP<space>B<space>Date টাইপ করে 26969 নম্বরে প্রেরণ করতে হবে (উদাহরণস্বরূপ, ১১ ফেব্রুয়ারি তারিখে এ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে চাইলে টাইপ করুন NP B 11)। ফিরতি মেসেজে যেই সময় উল্লেখ করা থাকবে, তখন BRTA অফিসে এসে বায়োমেট্রিক্স দেয়া যাবে।
  2. ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট তৈরি হলে গ্রাহককে মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে জানানো হয় এবং সেটা নেয়ার জন্য মোবাইলের এসএমএস অপশনে গিয়ে NP<space>C<space>Date টাইপ করে 26969 নম্বরে প্রেরণ করতে হবে। ফিরতি মেসেজে উল্লেখ করা সময়ে যেয়ে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট গ্রহন করা যাবে। কোনও কারণে নির্ধারিত তারিখে সার্টিফিকেট গ্রহণ করা সম্ভব না হলে একই পদ্ধতিতে আবার এ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়া যাবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স আপডেট এবং সত্যতা যাচাই

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার পর তা প্রিন্টিং-এর আগে কোন অবস্থায় আছে সেটা জানার জন্য এখন আর BRTA অফিসে দৌড়াতে হবে না। ঘরে বসেই এসএমএস-এর মাধ্যমে জানার জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে টাইপ করুন DL< Space>Reference no এবং পাঠিয়ে দিন 26969 নাম্বারে (যেমন- DL DM 3M0D5)। ফিরতি মেসেজে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থা জানানো হবে।

কিছু অসাধু মানুষের দুর্নীতির কারণে প্রায়ই অনেক অদক্ষ চালক ভুয়া ড্রাভিং লাইসেন্স নিয়ে রাস্তায় যানবাহন চালানোর সুযোগ পেতো। কিন্তু এখন যে কেউ চাইলে ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করে দেখতে পারবেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাইয়ের জন্য আপনার মোবাইলের মেসেজে গিয়ে টাইপ করুন DL<Space>Driving Licence Number লিখে মেসেজটি পাঠিয়ে দিন 26969 নাম্বারে (উদাহরণঃ DL V DK908CO09 )। ফিরতি মেসেজে আপনাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর, ড্রাইভারের নাম, লাইসেন্সের ধরন সহ বিভিন্ন তথ্য জানানো হবে।

এসএমএস আদান-প্রদানের জন্য মোটরবাইক মালিকের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন পদ্ধতি

ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার সময় বাইক মালিকের যেই নাম্বার দেয়া হয়, সেই নাম্বার থেকেই যাবতীয় মেসেজ আদান প্রদান করতে হয়। কোনও কারণে এই নাম্বার পরিবর্তন করতে চাইলে মোবাইলের এসএমএস অপশনে গিয়ে NP<space>Vehicle Reg. Numerical No (6 digit)<space>Transaction Number (Last 6 digit) টাইপ করে 26969 নম্বরে পাঠিয়ে দিন। যেমনঃ ধরুন আপনার বাইকের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ঢাকা মেট্রো-গ-12-1212 এবং টাকা জমা রশিদের ট্রানজেকশন নাম্বার 2001011325989। মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করার জন্য NP 121212 325989 লিখে 26969 নম্বরে পাঠাতে হবে।

অনলাইনেই জেনে নিন BRTA অনলাইন মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি

আগে BRTA-এর ওয়েবসাইটে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি ক্যালকুলেটর ছিলো। বর্তমানে তাদের নতুন সেবা পোর্টালে অ্যাকাউন্ট ওপেন করে রেজিস্টেশন ফি জানা সহ আরও বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহন করা যায়।

প্রথমত, কম্পিউটার বা মোবাইলের ব্রাউজার থেকে ওয়েবসাইট ওপেন করে সেখানে ‘প্রবেশ করুন’ বাটনে ক্লিক করে লগ-ইন পেইজে যেতে হবে।

অতঃপর আপনার নিবন্ধিত ইমেইল আইডি অথবা মোবাইল নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে Login বাটনে প্রেস করুন।

সফল্ভাবে লগ-ইন সম্পন্ন হলে নিচের ছবির মত একটি ড্যাসবোর্ড ওপেন হবে।

বিভিন্ন ফি সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য বাম পাশে নিচের দিকে ‘ফি প্রদান’ বাটনে ক্লিক করলে নিচের ছবির মত কিছু অপশন পাবেন।

নিবন্ধিত মোটরবাইকের বিভিন্ন ফি জানতে ও অনলাইনে পরিশোধ করার জন্য ‘নিবন্ধিত যানবাহন ফি প্রদান’ বাটনে ক্লিক করুন। নিচের ছবির মত একটি পেইজ ওপেন হবে।

এরপর রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের ঘরে মোটরবাইক রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের প্রথম অংশটি ফিটনেস সনদ বা ট্যাক্স টোকেন সনদে যেভাবে আছে, সেভাবে টাইপ করুন(যেমন ‘DHAKA METRO’)। সাজেশন হিসেবে যেই লিস্ট আসবে সেখান থেকে রেজিস্ট্রেশনের সঠিক সার্কেল বাছাই করুন।

এর পরের ঘরে আপনার বাইকের সিজির (যেমন  KA, GHA, GA ইত্যাদি) বাছাই করুন এবং পরের ঘরে আপনার বাইকের ৬ ডিজিটের নিবন্ধন নাম্বার ইংরেজিতে কোনো ড্যাশ ছাড়া (যেমন- 133000) টাইপ করুন।

অতঃপর চ্যাসিস নাম্বারের ঘরে যেই বাইকের ফি জানতে চান, সেই বাইকের চ্যাসিস নাম্বার ইংরেজিতে টাইপ করুন।

এরপর ‘অনুসন্ধান’ বাটনে ক্লিক করার পর সব তথ্য সঠিক থাকলে আপনার বাইকের যাবতীয় তথ্য দেখতে পারবেন। এখানে আপনার বাইকের জয়ন প্রযোজ্য ফি দেখতে পারবেন এবং প্রয়োজনে ফি পরিশোধও করতে পারবেন।

নতুন মোটরবাইকের নিবন্ধনের ফি সম্পর্কে জানতে ‘নতুন যানবাহন ফি প্রদান’ অপশন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি সংক্রান্ত সব তথ্য জানার জন্য ‘লাইসেন্স ফি প্রদান’ অপশন বেছে নিন।

উপসংহার

BRTA তাদের সেবায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সব প্রযুক্তি যোগ করছে। আশা করি, আগামীর দিনগুলোতে আমরা নতুন নতুন আরও অনেক অনলাইন সেবা পাবো। ২০১৯ সাল থেকেই সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ কার্যকর হয়েছে, আর শাস্তি বা জরিমানার ব্যাপারেও বেশ কঠোর আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। অতএব সব সময় আপনার মোটরবাইকের সব ডকুমেন্ট আপডেট করে রাখুন। নিরাপদ হোক আপনার পথচলা।

গ্রাহকদের নিয়মিত কিছু প্রশ্নের উত্তর

বাইকের চ্যাসিস নাম্বার কি?

একটি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের সময় বাইকের ইঞ্জিন ও চ্যাসিসের উপর একটি অনন্য সিরিয়াল নাম্বার বসানো হয়। রেজিস্ট্রেশনের পর সেটার যে বাহন আইডি নাম্বার (VIN) দেয়া হয়, সেই নাম্বারের শেষের ৬ ডিজিটে চ্যাসিস নাম্বার দেয়া থাকে। এই চ্যাসিস নাম্বার ও VIN যেকোনোটি আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

বাংলাদেশে কতগুলো BRTA অফিস আছে?

BRTA-এর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে মোট ৬২টি BRTA অফিস আছে। এর মধ্যে ৫৭টি জেলা সার্কেল এবং ৫টি মেট্রো সার্কেলে অবস্থিত।

লার্নার লাইসেন্স নিয়ে কি রাস্তায় গাড়ি চালানো যাবে?

লার্নার লাইসেন্স মূলত ড্রাইভিং শেখার উদ্দেশ্যে গাড়ি ড্রাইভ করার অনুমতিপত্র হিসেবে দেয়া হয়। এই লাইসেন্স নেয়ার পর আপনি একজন দক্ষ প্রশিক্ষকের কাছে ড্রাইভিং শেখার জন্য যেতে পারবেন এবং নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে ড্রাইভিং এর চেষ্টা করতে পারবেন। এই লার্নার লাইসেন্স দিয়ে শুধুমাত্র শেখার উদ্দেশ্যে আপনি ড্রাইভিং করার অনুমতি পাবেন, শিখে নেয়ার পর প্রশিক্ষক ছাড়া এই লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। তখন আপনাকে অবশ্যই সত্যিকার লাইসেন্সের আবেদন করতে হবে।

Similar Advices



Leave a comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.