ডেলিভারি রাইডারদের জন্য বাইক – দেশসেরা ৫টি মডেল

ডেলিভারি রাইডারদের জন্য বাইক – দেশসেরা ৫টি মডেল

প্রথমে করোনার প্রকোপ, তারপর দেশে এলো ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের হাতছানি! এমন সময় যেকোনো বয়সের মানুষের জন্যই কিছুটা বাড়তি ইনকামের সুযোগ যেন আশীর্বাদের মতো। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চ-মধ্যবিত্ত, সব ধরণের মানুষই এখন যেকোনো পেশাকে সম্মান দিতে শিখেছে। আর আমাদের দেশে অন্যতম সেরা ও সর্বজনীন পেশা হচ্ছে রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি সার্ভিস। যাদের কাছে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা, যেমন মোটরসাইকেল আছে তাদের মধ্যে অনেকেই কোনো না কোনো সময় এই পেশাকে একটু হলেও সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের আজকের আলোচনায় থাকছে ডেলিভারি রাইডারদের জন্য বাইক নিয়ে। ডেলিভারি রাইডারদের জন্য উপযুক্ত এমন ৫টি বাইকের স্পেসিফিকেশন ও দাম আমরা আজ দেখবো।

ডেলিভারি রাইডারদের জন্য বাইক বাছাই করার মূল বৈশিষ্ট্য

একজন ডেলিভারি রাইডারের চাহিদা কেমন, সেই অনুযায়ী তার পরিবহন বাছাই করতে হয়। ডেলিভারি রাইডারের জন্য মোটরসাইকেল বাছাই করার সময় যেই জিনিসগুলো মাথায় রাখা জরুরি, তা হচ্ছেঃ

  • সুলভ মূল্য

একজন ডেলিভারি রাইডার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সুলভ মূল্যের বাইক খুঁজে থাকেন। কেননা যেই ব্যক্তি অতিরিক্ত উপার্জনের চেষ্টা করছেন, তার জন্য মোটরসাইকেলের দাম সাশ্রয়ী হওয়াটাও একটি অন্যতম চাহিদা। কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার ক্ষেত্রেও বাইকের দাম সাধ্যের মধ্যে থাকাটা একটা বোনাস পয়েন্ট। 

  • অধিক মাইলেজ

সাশ্রয়ী মূল্যের বাইকের মধ্যে যত ভালো মাইলেজ পাওয়া সম্ভব, ডেলিভারি রাইডারদের জন্য তত বেশি সুবিধা। এতে করে সারাদিন ধরে রাইড করার সময় জ্বালানী খরচ নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না। শহর কিংবা মফস্বলের রাস্তায় জ্বালানী রিফিল স্টেশন সবসময় কাছাকাছি না থাকলেও বেশি মাইলেজ একজন রাইডারের জন্য বিশেষ একটি সুবিধা।

  • জ্বালানী দক্ষতা

মোটরবাইকের জ্বালানী দক্ষতা একজন ডেলিভারি রাইডারের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার।

  • মালামাল বহন করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা

ডেলিভারি রাইডারের জন্য বাইকে যথেষ্ট পরিমাণ জায়গা থাকাও আবশ্যক। কেননা যত বেশি জায়গা থাকবে, তত বেশি মালামাল তিনি একই সাথে বহন করতে পারবেন। ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর হয়ে কাজ করলে একসাথে অনেক রকম পণ্য নিয়ে তাদের চলাচল করতে হয়। তাই মালামাল বহনের উপযুক্ত জায়গা ও স্টোরেজ বক্স থাকাটা একজন ডেলিয়ারি রাইডারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

  • আরামদায়ক সিট

যাদের সামর্থ্য আছে তারা হয়ত সারাদিন ডেলিভারি করেন না, কিন্তু একজন পেশাদার ডেলিভারি রাইডার সারাদিন, এমনকি রাতেও মোটরবাইকে চড়ে মালামাল ডেলিভারি করেন। তাই একজন ডেলিভারি রাইডারের জন্য বাইকের সিট আরামদায়ক এবং লম্বা সময় বসে চালানোর উপযুক্ত হওয়াটা খুবই জরুরি।

ডেলিভারি রাইডারদের জন্য বাইক- ৫টি সেরা মোটরসাইকেল

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে আমরা আজকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এমন ৫টি মোটরবাইকের দাম ও স্পেসিফিকেশন নিয়ে আলোচনা করবো, যেগুলো একজন ডেলিভারি রাইডারের জন্য আদর্শ।

১। টিভিএস এক্সএল ১০০

ডেলিভারি রাইডারদের জন্য মোটরসাইকেলের কথা চিন্তা করলে প্রথমেই চোখ বন্ধ করে যেই নাম সবার মুখে আসে, সেটি হলো টিভিএস এক্সএল ১০০। এই বাইকটি বিশেষভাবে ডেলিভারি রাইডারদের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। স্পেসিফিকেশনগুলো নিচে উল্লেখ করছিঃ

 

ইঞ্জিন টাইপ ৪ স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার
ডিসপ্লেসমেন্ট ৯৯.৭ সিসি
সর্বোচ্চ পাওয়ার ৪.৩ বিএইচপি @৬০০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ টর্ক ৬.৫ এনএম @৩৫০০ আরপিএম
গিয়ার ৪ টি
কুলিং সিস্টেম এয়ার কুলিং
স্টার্ট সিস্টেম কিক
মাইলেজ ৬০ কিলোমিটার প্রতি লিটার (আনুমানিক)
সর্বোচ্চ স্পিড ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা (আনুমানিক)
ক্লাচ সেন্ট্রিফিউগাল ওয়েট টাইপ
ব্রেক সামনে ও পেছনে- ড্রাম
এবিএস নেই
টায়ার টাইপ টিউব টায়ার
সাসপেনশন সামনে- টেলিস্কপিক স্প্রিং টাইপ হাইড্রোলিক

পেছনে- হাইড্রোলিক শক সহ সুইং আর্ম

সিট আরামদায়ক সিঙ্গেল সিট
দাম বাংলাদেশে ৫৯,৯০০ টাকা

২। বাজাজ প্লাটিনা ১০০

বহুদিন ধরে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়ে আসা বাজাজ প্লাটিনা ১০০ সিসি বাইকটি একটি অন্যতম সেরা ডেলিভারি রাইডারদের জন্য বাইক। এই বাইকটি কমিউটার প্রকৃতির; ভালো মাইলেজ, দৃঢ় গঠন, টেকসই এবং দামেও বেশ সাশ্রয়ী। এই বাইকটির স্পেসিফিকেশন এবং দাম নিচে উল্লেখ করছিঃ

 

ইঞ্জিন টাইপ ৪ স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ডিজিটাল টুইন স্পার্ক
ডিসপ্লেসমেন্ট ১০২ সিসি
সর্বোচ্চ পাওয়ার ৮.৪ বিএইচপি @৭০০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ টর্ক ১০ এনএম @৪০০০ আরপিএম
গিয়ার ৪ টি
কুলিং সিস্টেম এয়ার কুলিং
স্টার্ট সিস্টেম কিক
মাইলেজ ৫০ কিলোমিটার প্রতি লিটার (আনুমানিক)
সর্বোচ্চ স্পিড ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা (আনুমানিক)
ক্লাচ ওয়েট মাল্টিপ্লেট
ব্রেক সামনে ও পেছনে- ড্রাম
এবিএস নেই
টায়ার টাইপ টিউব টায়ার
সাসপেনশন সামনে- টেলিস্কপিক এফআর ফোর্ক 

পেছনে- এসএনএস রিয়ার শক অ্যাবসর্বার

সিট আরামদায়ক সিঙ্গেল সিট
দাম বাংলাদেশে ৯৬,৯০০ টাকা

৩। হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস

হিরো স্প্লেন্ডার বাইকগুলো অনেক দিন থেকেই আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে রয়েছে। ভালো মাইলেজ, মেইনটেনেন্স, স্থায়িত্বকাল ইত্যাদি বিবেচনা করে দেখলে ডেলিভারি রাইডারদের জন্য বাইক হিসেবে এটি অতুলনীয়। হিরো স্প্লেন্ডার ১০০ সিসির এই বাইকটির স্পেসিফিকেশন ও দাম নিচে উল্লেখ করছিঃ

 

ইঞ্জিন টাইপ ৪ স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ওএইচসি
ডিসপ্লেসমেন্ট ৯৭.২ সিসি
সর্বোচ্চ পাওয়ার ৮.২ বিএইচপি @৮০০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ টর্ক ৮.০৫ এনএম @৫০০০ আরপিএম
গিয়ার ৪ টি
কুলিং সিস্টেম এয়ার কুলিং
স্টার্ট সিস্টেম কিক এবং ইলেকট্রিক
মাইলেজ ৭০ কিলোমিটার প্রতি লিটার (আনুমানিক)
সর্বোচ্চ স্পিড ৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা (আনুমানিক)
ক্লাচ ওয়েট মাল্টিপ্লেট
ব্রেক সামনে ও পেছনে- ড্রাম
এবিএস নেই, তবে বাজারে এবিএস সহ আরেকটি ভার্সন রয়েছে
টায়ার টাইপ টিউবলেস টায়ার
সাসপেনশন সামনে- টেলিস্কপিক হাইড্রোলিক শক অ্যাবসর্বার 

পেছনে- হাইড্রোলিক শক অ্যাবসর্বার সহ সুইং আর্ম

সিট আরামদায়ক সিঙ্গেল সিট
দাম বাংলাদেশে ৮৭,৪৯০ টাকা

৪। সুজুকি হায়াতে

আমাদের দেশে বর্তমানে ৩টি ভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে সুজুকি হায়াতে বাইকটি। বাকি দুইটি ভ্যারিয়েন্ট হচ্ছে সুজুকি হায়াতে ইপি এবং সুজুকি হায়াতে স্পেশাল এডিশন। এই মডেলটিও আমাদের দেশে ডেলিভারি রাইডারদের জন্য মোটরসাইকেল হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। ১১০ সিসির এই বাইকটির স্পেসিফিকেশন এবং দাম নিচে উল্লেখ করছিঃ

 

ইঞ্জিন টাইপ ৪ স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ২ ভালভ, এসওএইচসি
ডিসপ্লেসমেন্ট ১১২.৮ সিসি
সর্বোচ্চ পাওয়ার ৮.২ বিএইচপি @৭৫০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ টর্ক ৮.৮ এনএম @৫৫০০ আরপিএম
গিয়ার ৪ টি
কুলিং সিস্টেম এয়ার কুলিং
স্টার্ট সিস্টেম কিক এবং ইলেকট্রিক
মাইলেজ ৫৫ কিলোমিটার প্রতি লিটার (আনুমানিক)
সর্বোচ্চ স্পিড ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা (আনুমানিক)
ক্লাচ ওয়েট মাল্টিপ্লেট
ব্রেক সামনে ও পেছনে- ড্রাম
এবিএস নেই
টায়ার টাইপ টিউবলেস টায়ার
সাসপেনশন সামনে- টেলিস্কপিক, কয়েল স্প্রিং, অয়েল ড্যাম্প

পেছনে- সুইং আর্ম, কয়েল স্প্রিং, অয়েল ড্যাম্প

সিট আরামদায়ক সিঙ্গেল সিট
দাম বাংলাদেশে ৯৯,৯৫০ টাকা

৫। রানার বাইক আরটি

কম দামে ভালো সার্ভিস দেয় এমন বাইকগুলির মধ্যে রানার আইক আরটি আমাদের দেশে বেশ ভালো ও জনপ্রিয় একটি মডেল। ডেলিভারি রাইডারদের জন্য বাইকের তালিকায় তাই এই মোটরসাইকেলটিও স্থান করে নিয়েছে। দেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে রানার বেশ আস্থার একটি নাম, যদিও ছোটখাটো কিছু জিনিস এখনও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। এই বাইকটির স্পেসিফিকেশন এবং দাম নিচে উল্লেখ করছিঃ

 

ইঞ্জিন টাইপ ৪ স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার
ডিসপ্লেসমেন্ট ৮৬ সিসি
সর্বোচ্চ পাওয়ার ৫.৯ বিএইচপি @৭৫০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ টর্ক ৫.৫ এনএম @৪৫০০ আরপিএম
গিয়ার ৪ টি
কুলিং সিস্টেম এয়ার কুলিং
স্টার্ট সিস্টেম কিক এবং ইলেকট্রিক
মাইলেজ ৫০ কিলোমিটার প্রতি লিটার (আনুমানিক)
সর্বোচ্চ স্পিড ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা (আনুমানিক)
ক্লাচ ওয়েট মাল্টিপ্লেট
ব্রেক সামনে ও পেছনে- ড্রাম
এবিএস নেই
টায়ার টাইপ টিউব টায়ার
সাসপেনশন সামনে- হাইড্রোলিক টেলিস্কপিক

পেছনে- কয়েল স্প্রিং হাইড্রোলিক

সিট আরামদায়ক সিঙ্গেল সিট
দাম বাংলাদেশে ৫৫,০০০ টাকা

শেষকথা

উপরে উল্লেখিত এইসব ডেলিভারি রাইডারদের জন্য বাইক দেশের বিভিন্ন আউটলেট এবং অফিশিয়াল শোরুমগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। অফিশিয়াল ডিলার বা শোরুম থেকে নেয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, আপনি সহজ কিস্তিতে বাইকগুলো কিনে ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। তাছাড়া দেশের জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেসেও নতুন কিংবা ব্যবহৃত ডেলিভারি রাইডারদের জন্য মোটরসাইকেল কেনা ও দামের তুলনা করার দারুণ সুযোগ তো আছেই। ডেলিভারি রাইডার হিসেবে পথচলায় আপনার জন্য রইলো আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা। হ্যাপি রাইডিং!

Similar Advices



Leave a comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.