ভালো অকটেন চেনার উপায়

ভালো অকটেন চেনার উপায়

যানবাহন চালানো সহ আরো বিভিন্ন প্রয়োজনে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, এসব জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সাধারণত বাইকের জ্বালানি হিসেবে অকটেন বেশি ব্যবহৃত হয়। অকটেন একটি বর্ণ এবং গন্ধহীন গ্যাস। লিকুইড অবস্থায় এটি একটি অসাধারণ সলভেন্ট বা দ্রাবক হিসেবে কাজ করে। তাই এটি ইন্টারনাল কম্বুশন ইঞ্জিনের ফুয়েল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাইকের জ্বালানি হিসেবে এটি পারফেক্ট।

ভালো অকটেন অথবা যেকোনো বিশুদ্ধ ফুয়েল বাইকের ইঞ্জিনের জন্য খুবই জরুরি। বিশুদ্ধ ফুয়েল ইঞ্জিনের পারফর্মেন্স দীর্ঘস্থায়ী করে, তাছাড়াও বেশি মাইলেজ পেতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা কোন ধরণের জ্বালানি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের জন্য ভালো। আমাদের দেশে প্রায় সব বাইকের জ্বালানি হিসেবে অকটেন ব্যবহার হয়। এবং আমরা অনেকেই জানিনা, জ্বালানি হিসেবে আমরা যে অকটেন ব্যবহার করি, তা আসলে কতটুকু পিওর। কারণ, অনেক অসৎ ব্যবসায়ী অকটেনের সাথে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করেন। এই ব্লগে বিস্তারিত ভাবে অকটেন চেনার উপায় এবং বাইকের জ্বালানি হিসেবে অকটেন কেন উপযোগী এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে আমাদের দেশের অনেক ফুয়েল স্টেশনের ফুয়েলের কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড মানের হয় না। অকটেন অথবা পেট্রোল যাই হোক না কেন ফুয়েলের সাথে ভেজাল বা কেরোসিন মেশানো থাকে। তবে ভালো মানের ফুয়েল স্টেশনও অনেক আছে। সরকারি তদারকির অভাবে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী জ্বালানিতে ভেজাল মেশান, বিশেষ করে কেরোসিন মেশান। কারণ কেরোসিন মিশালে অকটেনের রঙে খুব একটা পরিবর্তন হয় না। তবে আপনি যদি ভালো অকটেন চেনার উপায় এবং কিছু টেকনিক জানেন তাহলে নিজেই বুঝতে পারবেন, মোটরসাইকেলে কোন মানের অকটেন ব্যবহার করছেন।

অকটেন কি?

আমরা অনেকেই মনে করি অকটেন এবং পেট্রোল দুটি আলাদা ধরণের জ্বালানি। এটি ভুল ধারণা। এই দুটোই একই ধরণের জ্বালানি এবং এদের কেমিকাল কম্পোজিশনও একই (C8H18)। বিশ্বব্যাপী এই দুটো জ্বালানি গ্যাসোলিন নাম পরিচিত। ইন্টারন্যাশনালি এই জ্বালানি আলাদা কোয়ালিটি নাম্বার দিয়ে প্রকাশ করা হয়। রিসার্চ অকটেন নাম্বার (Research Octane Number) বা রন (RON) দিয়ে এদের কোয়ালিটি পরিমাপ করা হয়। যেমন, অকটেনের RON ৯১ এবং পেট্রোলের RON ৮৭।

বাংলাদেশে গ্যাসোলিন দুটি মাত্রায় পাওয়া যায়, এগুলোই প্রচলিত ভাবে পেট্রোল ও অকটেন নামে পরিচিত। পেট্রোল এক ধরনের লিকুইড ভোলাটাইল পদার্থ, এটি পেট্রলিয়াম থেকে পাওয়া যায়। এবং অকটেন একধরনের সহযোগী কম্পোনেন্ট যা নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করা হয় মূল পদার্থের পারফরম্যান্স কন্ট্রোল করার জন্য। তাই এখন আপনারা বুঝতেই পারছেন অকটেন কোনো ফুয়েল না, এটি শুধুমাত্র পেট্রোল বা গ্যাসোলিনের কোয়ালিটি নির্দেশক একটি সংখ্যা। গ্যাসোলিন অথবা পেট্রোল যাই হোক, দুটি একই জিনিস, রন (RON) নাম্বার দিয়ে কোয়ালিটি মেজার করা হয়।

রিসার্চ অকটেন নাম্বার ৮৬ এর বেশি হলে সেটি ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে উপযুক্ত বলে ধরে নেয়া হয়। ইঞ্জিনের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করে রিসার্চ অকটেন নাম্বার নির্ধারন করা হয়। বেসিক বিষয় গুলো হল – ইঞ্জিনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা, বুস্টিং, বুস্টিং ক্যাপাসিটি ইত্যাদি। উন্নত দেশের পাম্পগুলোতে পেট্রোল বা অকটেন এসব মেনশন করা থাকে না, রিসার্চ অক্টেন নাম্বার বা RON নাম্বার মেনশন করা থাকে। ব্যবহারকারীরা তাদের বাইকের ইঞ্জিনের ক্ষমতা অনুযায়ী RON নাম্বার ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের দেশের পাম্প গুলোতে এই সিস্টেম না থাকার কারণে আমরা এই গ্যাসোলিন জ্বালানি আলাদা করতে পারিনা, এবং এগুলোকে পেট্রোল ও অকটেন হিসেবে চিনি। একারণেই আমরা ভেজাল অকটেন ধরতে পারি না। আমাদের দেশে যেসব গ্যাসোলিন বা অকটেনের রিসার্চ নাম্বার ৮৬, সেগুলো পেট্রোল নামে পরিচিত।

আপনি হয়তো জানেন না, সরকারি ভাবে বাংলাদেশে অকটেন নামে কোন ফুয়েলের অস্তিত্বই নেই। আমাদের দেশে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এর এখতিয়ারে দুই ধরনের পেট্রোল পাওয়া যায়, যা রেগুলার পেট্রোল এবং প্রিমিয়াম পেট্রোল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে আলাদা করে অকটেন নামে কোনো ফুয়েলের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এর তথ্য অনুযায়ী আমাদের দেশে রেগুলার পেট্রোল অর্থাৎ পেট্রোল নামে আমরা যা চিনি সেটার রন (RON) নাম্বার হল ৮০ এবং প্রিমিয়াম পেট্রোল অর্থাৎ অকটেন নামে আমরা যা চিনি সেটার রন (RON) নাম্বার হল ৯৫।

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী গ্যাসোলিনের সর্বনিম্ন ভ্যালু হতে হবে ৮৬।

গ্যাসোলিন ইঞ্জিনে ব্যবহারযোগ্য এনাৰ্জিতে কনভার্টেড হয়। এই প্রসেসকে বলা হয় ‘কবুশন প্রসেস’। রন (RON) বা অকটেন রেটিং এর মাধ্যমে বোঝা যায় কি পরিমান প্রেসারে ফুয়েল ইগনিট করবে বা জ্বলে উঠবে। অর্থাৎ যত বেশী অকটেন রেটিং ইঞ্জিন তত বেশি প্রেসার টলারেন্স করতে পারবে।

ভালো অকটেন চেনার উপায়

ভালো অকটেন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো অকটেন চেনার উপায় খুব কঠিন কিছু নয়, প্রথমে আপনাকে জানতে হবে কোন ধরনের ফুয়েল ব্যবহার করছেন এবং এর স্ট্যান্ডার্ড কেমন। তবে সমস্যা হল, আমাদের দেশে স্ট্যান্ডার্ড মান নির্দেশক কোনো ফুয়েল পাম্প স্টেশন নেই, তাই এই তথ্য পাওয়ার তেমন কোনো উপায় নেই। যদি না রেগুলেটরি কমিশন নিয়মিত যাচাই না করে।  আপনারা ইতিমধ্যেই জেনেছেন, পেট্রোল পাম্পে যা পেট্রোল ও অকটেন নাম দিয়ে বিক্রী হয়, সেটাই ইন্টারন্যাশনালী গ্যাসেলিন নামে পরিচিত। গ্যাসোলিনে রেটিং নাম্বার দিয়ে পেট্রোল এবং অকটেন আলাদা বুঝা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো রেটিং নাম্বার দেখানো হয় না, তাই অকটেন ও পেট্রল যাই কিনি না কেন, আসল কোনো স্ট্যান্ডার্ড আমরা বুঝতে পারি না।

ইন্টান্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো মানের গ্যাসোলিন স্ট্যান্ডার্ড শুরু হয় অকটেন নাম্বার ৮৬ (রন ৮৬) দিয়ে, এই স্ট্যান্ডার্ড ১০০ পর্যন্তও হতে পারে। এখানে অকটেন নাম্বার বিভিন্ন হতে পারে, কিন্তু কেমিক্যালি একই পদার্থ – গ্যাসোলিন। এই অকটেন নাম্বার বাড়ে বা কমে কিভাবে, এবং এই বাড়া – কমার সাথে, স্ট্যান্ডার্ড কিভাবে নির্ধারণ হয়? এবং এটি ইঞ্জিনে কিভাবে উপকার করে বা ক্ষতির কারণ হতে পারে?

এই স্ট্যান্ডার্ড মান কম বেশি হয় কারণ গ্যাসোলিনের সাথে কিছু রাসায়নিক পদার্থ যুক্ত করা হয়। এই কেমিকাল যুক্ত করার ফলে ফুয়েলের সংকোচন, প্রসারণ ও কম্বুশন লেভেল বেড়ে যায়। এসব পরিবর্তনের ফলে ফুয়েলের দহন ক্ষমতা বা কম্বুশন ক্যাপাসিটি বেড়ে যায়। সহজ ভাষায়, বেশি অকটেন নাম্বারের ফুয়েল ব্যবহারে (ধরুন রণ ৯১), ইঞ্জিনের সিলিন্ডারে মসৃন ভাবে দহন বা কম্বুশন হয়। এতে পিস্টন, ভাল্ব এবং কানেক্টিং রড থেকে কোনো নকিং হবে না, যন্ত্রাংশে ক্ষয় হবে না।

ভালো অকটেন চেনার উপায় আছে, কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট এবং কোয়ালিটি আছে যা দেখে অনেকটাই বোঝা যায় অকটেনের স্ট্যান্ডার্ড কেমন।

         (১) কালার বা রং যাচাই করুন –

ভালো অকটেন চিনতে পারবেন এর কালার দেখে। স্ট্যান্ডার্ড মানের অকটেনের রং হয় কিছুটা গোলাপি (লাইট পিঙ্ক)। পেট্রোল দেখতে হয় কমলা রঙের (অরেঞ্জ কালার)। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী অকটেনে কেরোসিন মেশান, রং প্রায় একই রকম থাকে, তাই ভালো করে না দেখলে বুঝতে পারবেন না।

         (২) স্মেল বা ঘ্রাণ যাচাই করুন –

স্ট্যান্ডার্ড অকটেনে হালকা ঝাঁজয়ুক্ত ঘ্রাণ থাকে, অনেকটা স্প্রিটের মতো। তবে তীব্র ঝাঁজয়ুক্ত মনে হলে বুঝবেন এতে কিছু মেশানো হয়েছে।

         (৩) ভালো মানের অকটেন বাতাসে উড়ে যায় –

যদি স্ট্যান্ডার্ড মানের অকটেন হয়, তাহলে, খোলা অবস্থায় রাখলে, কিছুক্ষন পর বাতাসে মিশে যাবে। পরীক্ষা করার জন্য কয়েক মিলিঃ অকটেন হাতে ঘষুন, কিছুক্ষন পর দেখবেন, হাতের যাই জায়গায় অকটেন লাগিয়েছিলেন, সেই জায়গা শুকিয়ে গেছে। আর অকটেনে ভেজাল মিশ্রিত থাকলে, হাতের সেই জায়গা তেলতেলে হয়ে থাকবে।

এই পরীক্ষাটি আপনি আরো একভাবে করতে পারেন। কয়েক ফোঁটা অকটেন কিছুটা উপর থেকে নিচে ফেলুন। ভালো মানের অকটেন হলে মাটিতে পরার আগেই বাতাসে মিশে যাবে। ভেজাল বা কেরোসিন মিশ্রিত অকটেন হলে মাটিতে পরে যাবে।

রিসার্চ অকটেন নাম্বার – আরওএন (RON) কি ?

গ্যাসোলিনের কন্সেন্ট্রেশন পরিমাপের জন্য রিসার্চ অকটেন নাম্বারের (RON) গুরুত্ব অনেক। গ্যাসোলিনে বিভিন্ন অ্যাডিটিভ ও বুস্টার মেশালে এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। ফলে বাইকের ইঞ্জিন মসৃন ভাবে কাজ করে, ইঞ্জিনের ইফিসিয়েন্সি বাড়ে। বেশির ভাগ সময় অ্যাডিটিভ ও বুস্টার হিসেবে সিসা, ইথানল, মিথানল, টলুন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এসব বুস্টার মেশালে গ্যাসোলিনের ইফিসিয়েন্সি অনেক বেড়ে যায়। এভাবেই গ্যাসোলিনের রিসার্চ অকটেন নাম্বার বেড়ে যায়।

তবে সীসা ব্যবহারে পরিবেশের কিছুটা ক্ষতি হয়, তাই বিজ্ঞানীরা ইথানল, মিথানল, টলুন ইত্যাদি অ্যাডিটিভ ব্যবহারে উৎসাহ দেন। তবে এগুলো সিসার মতো অত্যাধিক কার্যকর নয়, তবুও ভালোই গ্যাসোলিনের ইফিসিয়েন্সি বাড়াতে পারে এবং পরিবেশের জন্য ভালো।

তাহলে আমরা বলতে পারি, ইন্টারন্যাশনাল মান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মাত্রার অ্যাডিটিভ এবং বুস্টার ব্যবহারে গ্যাসোলিনের ইফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করে, ফুয়েলের পারফরম্যান্সের স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করা হয়। এই স্ট্যান্ডার্ড মান বা ভ্যালুকে বলা হয় অকটেন নাম্বার বা রিসার্চ অকটেন নাম্বার (আরওএন)।

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সর্বনিম্ন রিসার্চ অকটেন নাম্বার এর মান হল আরওএন ৮৬ (RON 86) এবং সর্বোচ্চ রিসার্চ অকটেন নাম্বার এর মান আরওএন ৯১ (RON 91)। আমাদের দেশে আরওএন ৮৬ পেট্রোল নামে পরিচিত। এবং আরওএন ৯১ অকটেন নাম পরিচিত। কিন্তু কিছু বিক্রেতারা ফুয়েলে ভেজাল মিশিয়ে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড মান নষ্ট করে দেন। তাই আমরা প্রায় কেউই বুঝতে পারিনা, কোন মানের গ্যাসোলিন ব্যবহার করছি।

কেন বাইকের জ্বালানি হিসেবে অকটেন উপযোগী? 

সাধারণত ১১০ সিসির কম ইঞ্জিন পাওয়ারের মোটরসাইকেলে পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ১২৫ সিসি বা ১৫০ সিসির বাইকের ইঞ্জিন পাওয়ারফুল হওয়ায় এসব বাইক গুলোতে অকটেন ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়। হাইয়ার সিসির বাইকে ভালো কোয়ালিটির পাওয়ারফুল ৪-স্ট্রোক ইঞ্জিন থাকে, এবং এসব ইঞ্জিনের কম্প্রেশন রেশিও বেশি থাকে। তাই বাইকের ইঞ্জিন মসৃন ভাবে কাজ করার জন্য অকটেন দরকার হয়। ভালো অকটেন ফুয়েলের দহন ক্ষমতা বা কম্বুশন ক্যাপাসিটি বাড়ায়।

তাছাড়াও আমাদের দেশে মানসম্পন্ন পেট্রোল (আরওএন ৮৬) খুব কম পাওয়া যায়। তাই অকটেন ব্যবহার করাই শ্রেয়। অকটেন ফুয়েলের দহন ক্ষমতা বাড়ায় তাই শীতকালে বাইকের ইঞ্জিনের কার্যকারিতা বাড়ে।

বাইকের জ্বালানি হিসেবে সঠিক অকটেন রেটিং এর গ্যাসোলিন ব্যবহারের গুরুত্ব –

মোটরসাইকেলে যদি স্ট্যান্ডার্ড অকটেন রেটিং এর পেট্রোল না ব্যবহার করা হয়, তাহলে মূলত ইঞ্জিনে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়। যেমন, ইঞ্জিন নকিং, ডিনোটেশন, স্পার্ক নক, ইত্যাদি। এসব সমস্যার সৃষ্টি হলে বাইকে অস্বাভাবিক বা বিকৃত শব্দ সৃষ্টি হয়। ইঞ্জিনের কম্প্রেশন রেশিও যদি বেশি হয়, সেখানে নিম্নমানের অকটেন রেটিং ফুয়েল ব্যবহারের ফলে ইগ্নিশানে সমস্যার সৃষ্টি হয়ে বাজে শব্দ উৎপন্ন হয়। ইঞ্জিনের পিস্টন ক্ষয় হয়। দীর্ঘ সময় নিম্নমানের অকটেন রেটিং ফুয়েল ব্যবহারে বাইকের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সৃষ্টি হয়, যেমন ইঞ্জিন পাওয়ার কমে যায়, মাইলেজ কমে যায়, ইত্যাদি।

এসব সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য অকটেন নামক পদার্থ গ্যাসোলিন এর সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। অকটেন এমন একটি কম্পোনেন্ট যা গ্যাসোলিনের উচ্চমাত্রার দাহ্যতা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই রিসার্চ অকটেন নাম্বার যত বেশী হবে গ্যাসোলিনের দাহ্যতা ততই কন্ট্রোল করা সম্ভব হবে।

পরিশেষে, ইন্টারন্যাশনাল রেগুলেশন অনুযায়ী জ্বালানী পাম্পে অকটেন রেটিং বা আরওএন নাম্বার লাগিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো পাম্পেই এরকম কোনো নির্দেশক দেখা যায় না। তাই আমরা কেউই বুঝতে পারিনা কেমন অকটেন রেটিং এর গ্যাসোলিন কিনছি। তাই আমাদের সচেতন থাকতে হবে, এবং ভালো অকটেন চেনার উপায় সম্পর্কে কিছুটা জ্ঞান মাথায় রাখতে হবে।

মোটরসাইকেল সম্পর্কিত যেকোনো তথ্যের জন্য ভিসিট করুন বাইকস গাইডে। এখানে আপনি বাইকের বিভিন্ন ব্র্যান্ড, মডেল, সিসি এবং দাম সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য পাবেন। এছাড়াও মোটরসাইকেল সম্পর্কিত বিভিন্ন টিপস এবং পরামর্শ পাবেন।

Similar Advices



Leave a comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.