বাজাজ পালসার ১৫০ – বাজেটের মধ্যে আমার পছন্দের বাইক

29 Mar, 2023   
বাজাজ পালসার ১৫০ – বাজেটের মধ্যে আমার পছন্দের বাইক

বাজাজ পালসার ১৫০ বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বাইক। আমাদের দেশের বাইকারদের কাছে এই মোটরসাইকেলের প্রভাব অনেক। এই বাইকের গর্জিয়াস ডিজাইন, শক্তিশালী ইঞ্জিন, চমৎকার স্ট্রাকচার, সর্বোপরি একটি আধুনিক রুচিশীল লুক যে কাউকে এট্রাক্ট করবে। বাংলাদেশে সর্বাধিক বিক্রিত বাইকগুলোর মধ্যে একটি এই পালসার ১৫০ সিসি বাইক মডেল। অনেক পালসার ব্যবহারকারী রিভিউ করেছেন, তাদের রিভিউ বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, স্পোর্টি-কমিউটার এই দুটির কম্বিনেশন এই বাইক মডেলটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই ব্লগে বাজাজ পালসার রিভিউ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বাজাজ কোম্পানি বাংলাদেশে এই বাইকটি প্রথম এনেছিল ২০০১ সালে। সেই সময়ের ইয়ং জেনেরেশনদের টার্গেট করে এই বাইকটি  বাজারে লঞ্চ করা হয়। সেই সময় যথেষ্ট কমিউটার টাইপ বাইক পাওয়া যেত। এর মধ্যে বাজাজ স্পোর্টস-কমিউটার কম্বিনেশনে একটি অত্যাধুনিক বাইক বাজারে নিয়ে আসে। রিজনেবল দাম, গর্জিয়াস লুক, স্পীড সবকিছু মিলিয়ে এই বাইক মডেলটি ক্রেজ তৈরী করে। ভারত, বাংলাদেশ সহ এশিয়ার অনেক গুলো দেশে পালসার ১৫০ সিসির বাইকটি অভাবনীয় সাড়া ফেলে দিয়েছিলো। গুগল সার্চ ইঞ্জিনে পালসার ১৫০ রিভিউ লিখে সার্চ দিলে আপনি দেখতে পারবেন এই বাইকের ক্রেজ কত বেশি! সে সময়ের আপডেটেড প্রযুক্তি, পারফর্মেন্স, ডিজাইন, সবকিছু মিলিয়ে একটি কমপ্লিট প্যাকেজ ছিল এই বাইক মডেল। সময়ের সাথে সাথে এটি আরো আপগ্রেড প্রযুক্তি সংযুক্ত করে, আধুনিক ডিজাইন বজায় রেখে এখনো মার্কেটে চাহিদা ধরে রেখেছে।

বাজাজ পালসার রিভিউ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাইকাররা পালসার ১৫০ মডেলটির গর্জিয়াস লুকটাই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। এর লুক আসলেই ফ্যাসিনেশন তৈরী করে। হাইওয়ে, সিটিরোড, যানজটপূর্ণ রাস্তায়, যেকোনো পরিবেশেই আপনি এই বাইক চালাতে পারবেন। একাধারে গতি সম্পন্ন, সাথে কমিউটার হিসেবেও যথেষ্ট কম্ফোর্টেবল। তাই পালসার ব্যবহারকারী রিভিউকারীদের মতে, এটি সকল বাইকারদের পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকে থাকে, এবং সকল বয়সী বাইকারদের সাথে মানানসই।

পালসার ১৫০ রিভিউ অনুযায়ী এর ডাইনামিক বডি, স্মুথ সাসপেনশন, ল্যাম্প ডিজাইন, আউটলুক এবং আকর্ষণীয় কালার কম্বিনেশন যেকোনো বাইকারকে এক পলকেই এট্রাক্ট করে ফেলে। বাইকটি এখনো পারফরম্যান্স সুনাম ধরে রেখেছে, সার্ভিসিং সেন্টার এবং স্পেয়ার পার্টস সহজলভ্য হবার কারণে এর জনপ্রিয়তা এখনো উপরের দিকেই আছে।

বাজাজ পালসার রিভিউ 

(১) স্পেশালিটি

২০০১ সালে বাজাজ পালসার বাংলাদেশের বাজারে আসে। এই দুই যুগ ধরে ১৫০ সিসি লিমিটেশনের বাইকগুলোর মধ্যে, পালসার ব্যবহারকারী রিভিউ মতে, পালসার ১৫০ একটি স্ট্যান্ডার্ড ধরে রেখেছে। ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সময়ের সাথে সাথে এর বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তন এসেছে, নতুন কিছু প্রযুক্তি সংযুক্ত হয়েছে।

পালসার ১৫০ রিভিউ অনুযায়ী, সর্বশেষ পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ডিজাইন, গ্রাফিক্সে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, তাছাড়াও কিছু কিছু পরিবর্তন হয়েছে, স্প্লিট সিটিং পজিশনে, ফ্রন্ট গিয়ার লিভারে, চাকা ডাবল ডিস্ক হয়েছে, পিছনের চাকা বড় করা হয়েছে, চেইন কভার দেয়া হয়েছে, সর্বোপরি আউটলুক আরো আধুনিক হয়েছে। স্টাইলিশ ডিকেলস ব্যবহার করা হয়েছে এর বডি এবং ফুয়েল ট্যাংকারে। যা বাইকটিকে আরো স্পোর্টি, গর্জিয়াস এবং আকর্ষণীয় লুক দিয়েছে।

রিভিউ অনুযায়ী নতুন ভার্সনটির মাইলেজও কিছুটা বেড়েছে, সিটিতে ৪০-৪৫ কিমি/লিঃ এবং হাইওয়েতে ৪৫-৫০ কিমি/লিঃ। সিট্ কিছুটা বড় হওয়ায় রাইডার, পিলিয়ন দুজনেই কম্ফোর্টলি বসতে পারবেন। স্পোর্টি লুক, স্পীডি বাইক হওয়া সত্বেও, লম্বাটে সিটিং পজিশনের কারণে কমিউটার বাইক হিসেবেও এটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বাজাজ পালসার রিভিউ অনুযায়ী, রাস্তায় নিরাপদে চলতে সাসপেনশন ও চাকায় কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। ভাল ব্রেকিং নিশ্চিত করতে পেছনের চাকায় ড্রাম ব্রেকের সাথে রেয়ার ডিস্ক ব্যবহার করা হয়েছে। এবং চাকা একটু মোটা করা হয়েছে। অন্ধকারে আরো নিরাপদে চলতে হ্যান্ডেলবারে ব্যাকলিট সুইচগিয়ার সংযুক্ত করা হয়েছে। বাইকের সামনে টেলিস্কোপিক এবং পেছনে টুইনশক সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে।

পালসার ব্যবহারকারী রিভিউ অনুযায়ী, বাজাজ পালসার ১৫০ এর কিছু আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য:

  • আধুনিক ডিজাইন, স্টাইলিশ ডিকেলস
  • স্পোর্টি স্প্লিট সিটিং পজিশন
  • সাইলেন্সার আপডেট করা হয়েছে
  • এলইডি টেইলাইট নতুন সংযোজন করা
  • ডিজিটাল স্পিডোমিটার
  • টেলিস্কোপিক এবং টুইনশক সাসপেনশন
  •  ক্লিপ অন স্টাইল হ্যান্ডলবার।

(২) ইঞ্জিন ও ট্রান্সমিশন –

রিভিউয়ারদের মতে পালসার ১৫০ বাইকের পাওয়ারফুল ইঞ্জিন এর সবচেয়ে বড় শক্তি। যেকোনো রাস্তায়, যেকোনো আবহাওয়ায়, অবাধে চলাচল করতে পারবেন এই বাইকের ইঞ্জিনের সাহায্যে। এই বাইকে রয়েছে ১৪৯.৫ সি.সি. ডিসপ্লেসমেন্টের একটি এয়ার কুল্ড, ৪ স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ডিটিএসআই ইঞ্জিন। পাওয়ার। এটি ১৪ পিএস শক্তি ও ১৩.৪ এনএম টর্ক উৎপাদন করতে পারে। ইঞ্জিন পাওয়ার ট্রান্সমিশনের জন্য আছে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স সাথে ডিজিটাল স্পিডোমিটার। ইঞ্জিন থেকে ভালো আউটপুট পেতে রয়েছে এক্সহস্ট ইঞ্জিন। বাইক রাইডিং কম্ফোর্টেবল করতে সামনে টেলিস্কোপিক ফ্রন্ট সাসপেনশন এবং পেছনে নিট্রক্স সাসপেনশন দেয়া হয়েছে।  ইলেক্ট্রিক এবং কিক দুটি অপশনই আপনি বাইক স্টার্ট দিতে পারবেন। ব্রেকিং সিস্টেমও যথেষ্ট ভালো, এর সামনের চাকা ডিস্ক ব্রেক ও পেছনে চাকা ড্রাম ব্রেক।

(৩) বডি ডাইমেনশন –

বাজাজ পালসার রিভিউ অনুযায়ী পালসার ১৫০ এর সর্বশেষ ভার্সনটি দেখতে শুধু গর্জিয়াসই না, এর পারফরম্যান্সও দুর্দান্ত। পালসার ১৫০ রিভিউ অনুযায়ী ১৫০ সেগমেন্টের মধ্যে এই বাইকের রাইডিং পারফর্মেন্স, বডি ডাইমেনশন, সিটিং পজিশন, সবই পারফেক্ট। সাথে মাইলেজ, ব্রেকিং, স্মুথ গতি সব মিলিয়ে পারফেক্ট কম্বিনেশন। বাইকটির ওভারঅল লেংথ ২০৫৫ মিমি, ওয়াইড এবং হাইট যথাক্রমে ৭৫৫ মিমি এবং ১০৬০ মিমি। এর নেট ওজন ১৪৪ কেজি। ফুয়েল ক্যাপাসিটি ১৫ লিটার। এর হুইল বেইজ ১৩২০ মিমি সাথে গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৫ মিমি। সব মিলিয়ে বাইকটি আপনাকে স্মুথ এবং কম্ফোর্টেবল রাইডিং এক্সপেরিয়েন্স দেবে।

(৪) সাসপেনশন –

পালসার ব্যবহারকারী রিভিউ অনুযায়ী বাইকের সাসপেনশন অসাধারণ। এই সাসপেনশন বাইকের পারফরম্যান্সকে করেছে টপ-নোচ। বাইকের সামনে রয়েছে টেলিস্কোপিক সাসপেনশন সিস্টেম পেছনে রয়েছে টুইনশক সাসপেনশন সাথে ৫-ওয়ে অ্যাডজাস্টেবল নাইট্রক্স শক অ্যাবসোর্বার রয়েছে। তাই উঁচু-নিচু, আঁকা-বাঁকা রাস্তায় অনায়াসেই চালানো যায়। যথেষ্ট গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স স্পেস থাকায়, নিরাপদে বাইক চালানো যায়।

(৫) ব্রেকিং সিস্টেম এবং চাকা

পালসার ১৫০ রিভিউ অনুযায়ী অনুযায়ী বাজাজ ১৫০ বাইকের চাকা ভালো মানের ডাবল ডিস্ক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সামনের চাকা ডিস্ক, এবং পিছনের চাকা ড্রাম বেসড। পিছনের চাকার রেস্পন্স আরো ভালো হওয়ার জন্য ড্রাম ব্রেকের সাথে রেয়ার ডিস্ক সংযুক্ত করা হয়েছে। সামনের ব্ৰেকটি ৪০ মিমি ডিস্ক সাথে ৮০/১০০-১৭ টায়ারযুক্ত। পিছনের ব্ৰেকটি ১৩০ মিমি ড্রাম ব্রেক সাথে ১০০/৯০-১৭ টায়ারের সাথে সংযুক্ত। ঝাঁকুনি থেকে বাইকে রক্ষা পেতে এটিতে রয়েছে নিট্রোক্স শক এবজর্ভার। এর টিউবলেস টায়ার আপনাকে নিরাপদে এবং স্বচ্ছন্দে চলতে সাহায্য করবে।

(৬) মিটার কনসোল

বাইক রিভিউয়ারদের মতে ভালো মানের মিটার কনসোল বাইকারদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বাজাজ ১৫০ বাইকে সেমি-ডিজিটাল মিটার কনসোল ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বশেষ ভার্সনে মিটার কনসোল ক্লাস্টারে অল্প কিছু আপগ্রেড করা হয়েছে। কিন্তু আরপিএম সেক্টরটি অ্যানালগ মিটারই রয়েছে, তবে বড় গোলাকার প্যানেলে বাইকাররা ভালোভাবেই নজর রাখতে পারেন। যাইহোক পুরো প্যানেলটি ডিজিটাল ফিচারস সম্পন্ন, এখানে ট্রিপ, ওডো, ফুয়েল গজ, ঘড়ি এবং ড্যাশবোর্ডের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দিক ভালো ভাবে দেখতে এবং বুঝতে পারবেন।

বাজাজ পালসার রিভিউ অনুযায়ী বাইকের ভালো বৈশিষ্ট্য হলো:

             (১) গতি, মাইলেজ মিলিয়ে অসাধারারণ পারফরম্যান্স।

             (২) গ্রফিক্স, ডিজাইন, কালার কম্বিনেশন গর্জিয়াস।

             (৩) ডুয়েল ডিস্ক ব্রেক এবং উভয় সাসপেনশন দুর্দান্ত।

             (৪) ইঞ্জিন শক্তিশালী, ব্যবহার করা হয়েছে ফোর স্ট্রোক ডিটিএসআই ইঞ্জিন।

             (৫) সিটি রোড, হাইওয়ে, যে কোনো রাস্তায় কন্ট্রোল ক্ষমতা অসাধারণ।

             (৬) সিটিং পজিশন কম্ফোর্টেবল।

             (৭) হ্যান্ডেলবারের গ্রিপিং শক্তিশালী।

             (৮) দুই চাকাতেই টিউবলেস টায়ার।

পালসার ১৫০ রিভিউ অনুযায়ী কিছু খারাপ বৈশিষ্ট্য হল –

             (১) পালসার ১৫০ রিভিউ অনুযায়ী কিছু খারাপ বৈশিষ্ট্য হল –

             (২) কিক স্টার্ট এর ব্যবস্থা নেই, তাই শীতের সময়ে সমস্যা হতে পারে,

             (৩) পিছনের চাকার কিছুটা ইম্প্রোভ করা দরকার, ব্রেক ডিস্ক হলেও পার্ফরমেন্স স্ট্যান্ডার্ড না,

             (৪) গিয়ার্ সব ভালো কাজ করলেও, সেকেন্ড গিয়ারে কিছুটা শব্দ হয়, যেটি অনেকের বিরক্তির কারণ হয়,

             (৫) সিবিএস বা এবিএস নেই,

             (৬) সিটি রাইডিং এবং যানজটে মাইলেজ কম।

 

সবশেষে বলা যায়, বাইকটি শুরুর দিকে শুধু মাত্র ইয়ং জেনেরেশনদের টার্গেট করা বাজারে ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু এর জনপ্রিয়তা এবং নির্ভরতা এতো বেড়েছে যে, সব বয়সী, সব পেশার মানুষদের কাছে এটি পছন্দের বাহন হয়ে গেছে। হাইওয়ে রাস্তার জন্য এটি অতুলনীয়, তেমনি সিটি রোডে অনায়াসে চালানো যায়। বাইকটি মাইলেজ, গতি, পারফরম্যান্স, ডিজাইন, সব কিছু মিলিয়ে একটি দুর্দান্ত কম্বিনেশন।

কিছু পালসার ব্যবহারকারী রিভিউ দেয়া হল

সিয়াম সাখাওয়াত সাম্য বলেছেন,

আমার পালসার ১৫০ সিসি বাইকের দুই চাকাতেই রয়েছে ডিস্ক ব্রেক। এখন পর্যন্ত ৬ মাস রেগুলার রাইড করেছি, একবার সার্ভিসিং করিয়েছি। আমি বেশিরভাগ সময় শহরাঞ্চলে রাস্তায় বাইক চালিয়েছি, মাইলেজ পেয়েছি ৩৫-৪০ কিমি পার লিটার। অকটেন তেল ব্যবহার করেছি। বাইকের সবই ভালো লেগেছে, কিন্তু হেডলাইটের আলো খুব একটা জোরালো নয়। আমি এখনো কোনো মডিফিকেশন করিনি। পরবর্তীতে ফগ লাইট লাগাতে পারি। প্রতি সপ্তাহে একবার বাইক সাধারণ ভাবে ওয়াশ করি। ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করি, মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল। কোনো পার্টস চেঞ্জ করিনি এখনো। এই ৬ মাসে আমি বাইকের কন্ট্রোলে কোনো সমস্যা পাইনি, ভালো মাইলেজই পেয়েছি। বাইকের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট।

মোঃ শাহাদাত বলেছেন,

আমি এই বাইকের প্রেমে পরেছি এর গর্জিয়াস লুক দেখে। এর গতি, মাইলেজ, পারফরম্যান্স সবই আমার কাছে দুর্দান্ত লেগেছে। আমি এখন পর্যন্ত ২৫০০ কিমি পর্যন্ত চালিয়েছি, আমি ৫০ এর উপরে মাইলেজ পেয়েছি। যদিও অনেকেই বলেছেন ৪৫ এর উপরে মাইলেজ পাওয়া যায় না। বাইক রেগুলার পরিষ্কার করেছি, ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেছি। ইঞ্জিন অয়েল হিসেবে সুপার ৪টি  ২০ডাব্লিউ -৫০ ব্যবহার করছি। হাইওয়েতে আমি খুব ভালো পারফরম্যান্স পেয়েছি। সিটি রোডে আপনি ৩ গিয়ারে ভালো মাইলেজ পাবেন, এবং হাইওয়ে তে ৫ গিয়ারে ভালো মাইলেজ পাবেন। বড় কোনো সার্ভিসিং এবং পার্টস পরিবর্তন করার প্রয়োজন পরেনি। এই বাইক ব্যাবহারে এখন পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট।

মাসুদ আখতার বলেছেন,

নতুন বাইকে আমি ৪৮ কিমি পার লিটার মাইলেজ পেয়েছি। এই বাইকের মাইলেজ নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন, আমার এক্সপেরিয়েন্স হল, ইকোনমি স্পিডে আমি ৪৫+ মাইলেজ পেয়েছি। এর সিটিং পজিশন কম্ফোর্টেবল। হ্যান্ডেলবার, ব্রেক, গিয়ার সিফটিং স্মুথলি কাজ করে। যারা দীর্ঘ রাইডিং করেন তারা অনেক কম্ফোর্টেবল ভাবে রাইড করতে পারবেন। স্পীড এবং এক্সিলারেশন দুর্দান্ত।

চাকার সাইজ যথেষ্ট ভালো, বডি গ্রাফিক্স অনেক সুন্দর, যা আমার কাছে গর্জিয়াস লুকিং মনে হয়েছে। যেহেতু চেইন কভার নেই, তাই আমি চেইন স্পোকেট রেগুলার পরিষ্কার করি। কারণ খোলা চেইনে অনেক ময়লা আটকায়। সব মিলিয়ে  বাইকটি আমার অনেক পছন্দের।

সংক্ষেপে বাজাজ পালসার ১৫০ এর স্পেসিফিকেশন 

ইঞ্জিন টাইপ এবং ডিসপ্লেসমেন্ট

         (১) ইঞ্জিন ডিসপ্লেসমেন্ট: ১৪৯.৫ সিসি

         (২) ইঞ্জিন টাইপ: ৪ স্ট্রোক ইঞ্জিন, সিঙ্গেল সিলিন্ডার, ২টি ভালভ

         (৩) ইগনিশন: ডিজিটাল টুইন স্পার্ক ইগনিশন

         (৪) কুলিং সিস্টেম: এয়ার কুলড

         (৫) স্টার্টিং মেথড: সেলফ স্টার্ট

         (৬) ম্যাক্স পাওয়ার: ১৪ পি এস @ ৮,৫০০ আর পি এম

         (৭) ম্যাক্স টর্ক: ১৩.২৫ এন এম @ ৬,৫০০ আর পি এম

         (৮) ফুয়েল ট্যাঙ্ক: ১৫ লিটার

         (৯) রিজার্ভ ট্যাঙ্ক: ৩.২ লিটার

         (১০) মাইলেজ: ৪০-৪৫ কিমি (প্রায়)

ব্রেক

         (১) সামনের ব্রেক: ডিস্ক

         (২) পেছনের ব্রেক: ড্রাম

         (৩) ট্রান্সমিশন: ৫ স্পিড ম্যানুয়াল

         (৪) ক্লাচ টাইপ: ওয়েট মাল্টিপ্লেট

         (৫) এ বি এস: নেই

টায়ার

         (১) টায়ার টাইপ: টিউবলেস

         (২) সামনের টায়ার সাইজ: ৯০/৯০

         (৩) পেছনের টায়ার সাইজ: ১২০/৮০

         (৪) সামনের পেছনের উভয় চাকার সাইজ: ১৭ ইঞ্চি

সাসপেনশন

         (১) সামনের সাসপেনশন: টেলিস্কোপিক সাথে এন্টি-ফ্রিকশন বুশ

         (২) পেছনের সাসপেনশন: ৫ ওয়ে এডজাস্টটেবল সাথে নিট্রক্স শক অবসরবার

ব্যাটারি এবং লাইট

         (১) ব্যাটারি: ১২ ভি

         (২) হেড লাইট: হেলোজেন

         (৩) টেইল লাইট: এল ই ডি

              (৪) টার্ন: সিগন্যাল ল্যাম্প        

         (৫) ইন্ডিকেটর: হেলোজেন

(৬) টেকনিকাল ফিচারস

         (১) স্পীডোমিটার: সেমি ডিজিটাল

         (২) ওডোমিটার: ডিজিটাল

         (৩) ট্রিপমিটার: ডিজিটাল

         (৪) গিয়ার ইন্ডিকেটর: নেই

         (৫) ফুয়েল ওয়ার্নিং ইন্ডিকেটর: আছে

         (৬) আর পি এম মিটার: এনালগ

বাইকস গাইড: কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে পালসার এর কয়টি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়?

৪টি। পালসার ১৫০ সিঙ্গেল ডিস্ক, পালসার ১৫০ টুইন ডিস্ক, পালসার ১৫০ টুইন ডিস্ক এবিএস, এবং পালসার ১৫০ নিয়ন।

পালসার ১৫০ এর কয়টি কালার রয়েছে?

৪ টি কালার। স্পার্কেল ব্ল্যাক-রেড, স্পার্কেল ব্লু, স্পার্কেল ব্ল্যাক-ব্লু, স্পার্কেল ব্ল্যাক-রেড, স্পার্কেল ব্লু, এবং স্পার্কেল ব্ল্যাক-সিলভার।

Similar Advices



Leave a comment

Please rate

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Buy New Bajaj Pulsar 150bikroy

No bikes found. Browse used section or Explore other models.

Buy Used Bajaj Pulsar 150bikroy
Bajaj Pulsar 4 clear modefid 2011 for Sale

Bajaj Pulsar 4 clear modefid 2011

32,565 km
verified MEMBER
verified
Tk 68,000
1 week ago
Bajaj Pulsar ug4 good 💯💯 2011 for Sale

Bajaj Pulsar ug4 good 💯💯 2011

32,568 km
verified MEMBER
verified
Tk 65,000
6 days ago
Bajaj Pulsar al clear 2015 for Sale

Bajaj Pulsar al clear 2015

25,456 km
verified MEMBER
verified
Tk 78,000
1 week ago
Bajaj Pulsar tuin Dex good 2020 for Sale

Bajaj Pulsar tuin Dex good 2020

21,452 km
verified MEMBER
verified
Tk 118,000
2 weeks ago
Bajaj Pulsar sorm canditan 2012 for Sale

Bajaj Pulsar sorm canditan 2012

22,355 km
verified MEMBER
verified
Tk 72,000
2 weeks ago
+ Post an ad on Bikroy