ইএমআই তে বাইক কেনার কথা ভাবছেন? যা যা জেনে নিতে হবে

ইএমআই তে বাইক কেনার কথা ভাবছেন? যা যা জেনে নিতে হবে

যারা ঢাকায় বসবাস করে তারাই বুঝে সকাল-সন্ধ্যা ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে থাকা কতটা বিরক্তিকর! নিশ্চিন্তে যাতায়াতের জন্য একটা মোটরসাইকেল বা বাইকের প্রয়োজনীয়তা আমাদের জীবনে কতটা গুরুতূপূর্ণ তা আমরা অনুভব করতে পারি।

দৈনন্দিন পরিবহণ খরচ কমাতেও যেমন সাহায্য করে তেমনি কর্মস্থলে সময়মতন পৌঁছাবার জন্য মোটরসাইকেলের এর অবদান অতুলনীয়। 

কিন্তু একটি বাইক ক্রয় করা এত সহজ ব্যাপার নয় সাধারণ মানুষদের পক্ষে। বাইক কেনার ব্যাপারে EMI- এর সাহায্য নেবার সিদ্ধান্তের প্রধান কারন হলো মোটরসাইকেলের চড়া দাম। 

একেবারে এত টাকা জোগাড় করাটা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বেশ কঠিন। আজকাল তাই EMI-এর মাধ্যমে বাইক ক্রয় করছে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম। 

Daraz-এ EMI তে বাইক কিনার দারুন অফার

বাংলাদেশের বৃহত্তম অনলাইন শপ দারাজ ১২ মাসে ০% ইন্টারেস্টে দারুণ ইএমআই সুবিধা অফার করে থাকে। 

মূল মূল্যের বাইরে, মাসিক কিস্তিতে কোনো রকম বাড়তি টাকাও মোটরসাইকেল এর পিছনে খরচ হচ্ছে না। এর ফলে গ্রাহকেরা সহজ কিস্তিতে নিজের মনের মতন বাইক  কিনতে পারে। 

দারাজ এই ০% ইন্টারেস্টের সুবিধাটি অনুমোদন করার ফলে তাদের সার্ভিসের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে ।

এছাড়া, বিশাল সব ডিসকাউন্ট ও ভাউচারের মাধ্যমে সব রকম ব্র্যান্ডেড মোটরসাইকেল অবিশ্বাস্য দামে ক্রয় করারও সুযোগ করে দিয়েছে দারাজ। সকল বাইক ক্রেতাদের ভিড় যেন দারাজে লেগেই আছে রাতদিন।

অনেকটাই সহজে এখন আপনি নামীদামি কোনো ব্র্যান্ড থেকে ভাল মোটরসাইকেল বেছে নিয়ে ক্রয় করতে পারেন।

এমন সব অফার দিয়ে দারাজের অনলাইনই শপ এখন একটি নির্ভরযোগ্য স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে , সকল প্রকার মোটরসাইকেল ক্রয় বিক্রয় এর জন্য । 

হোন্ডা, ভেসপা, সুজুকি, টিভিএস মোটরসাইকেল, ওয়ালটন, অ্যাপ্রিলিয়া, কিওয়ে সহ আরো সব নামকরা ব্র্যান্ডের মোটর সাইকেলের সর্বোচ্চ কালেকশন এখন দারাজে পাওয়া যাবে EMI সুবিধার মাধ্যমে । 

Pathao বাইক ফাইন্যান্সিং এ  EMI সুবিধা

সম্প্রতি বাইকের EMI সুবিধা নিয়ে Pathao ও Hero একসাথে সংযুক্ত হয়েছে। পাঠাও এবং হিরোর যৌথ উদ্যোগে সুযোগ দিচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যে মোটর সাইকেল কেনার! স্বল্প ডাউন পেমেন্ট দিয়ে তাদের EMI সিস্টেমের মাধ্যমে মোটর সাইকেল কিনার অফার চলছে। 

EMI সিস্টেমের মাধ্যমে কিস্তি পরিশোধের উপায় রাখা হয়েছে দুই রকম:

  • ১৫% ডাউন পেমেন্ট, ১২ মাসের কিস্তি।
  • ৩০% ডাউন পেমেন্ট, ১২ মাসের কিস্তি।

চাকুরীজীবীদের বাধ্যতামূলক ডকুমেন্ট দেখাতে হবে যেমন সেলারি সার্টিফিকেটের মুল কপি, নবায়নকৃত ট্রেড লাইসেন্সের কপি, HR কর্তৃক প্রদান করা লেটার ইত্যাদি আরও অনেক কাগজপত্র প্রমান দেখাতে হবে। 

যেসকল Pathao  রাইডাররা অন্তত তিন মাস সফলভাবে পাঠাও এর সাথে রাইড দেয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তারাই কেবল এই অফার উপভোগ করার যোগ্য। 

বেকার স্টুডেন্টের ক্ষেত্রে ২০০ টাকার স্ট্যাম্পে বাবা-মার এফিডেবিট  কিংবা বাবা ও মায়ের বিগত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে।

আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি,ইলেকট্রিসিটি/গ্যাস/ওয়াসা কিংবা টেলিফোন বিলের কপি, ও বাসার ঠিকানা নিশ্চিতকরনের জন্য ২০০ টাকার স্ট্যাম্পে এফিডেবিট সহ আরও বেশ কিছু প্রমান পত্র দেখাতে হবে। 

একটি গ্যারেন্টারের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সিকিউরিটি চেক এবং ২০০ টাকার স্ট্যাম্পে এফিডেবিট ও প্রয়োজন পরবে। 

Suzuki বাইক-এর EMI লোন সিস্টেম

বাংলাদেশের বাজারে জাপানের বিখ্যাত ব্র্যান্ড Suzuki-এর অনেক রকম গুণমান সম্পন্ন বাইক রয়েছে। সিটি ব্যাঙ্কের বাইক লোনের মাধ্যমে আপনি সহজেই তাদের বাইক কিনতে পারবেন।

সিটি ব্যাংকের বাইক লোনের বিস্তারিত

  • সিটি ব্যাংক বাইক লোনের মাধ্যমে সুজুকি বাইক কিনুন।
  • ঋণের পরিমাণ 10,00,000 টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয় । এই ক্ষেত্রে আপনি রেজিস্ট্রেশন ফি সহ 80% পরিমাণ অর্থ পেতে সক্ষম হবেন। নারীদের জন্য আপনি রেজিস্ট্রেশন ফি সহ 100% টাকা পেতে পারেন
  • কিস্তির সময়কাল 6 থেকে 36 মাস পর্যন্ত
  •  মহিলাদের জন্য বিশেষ কিস্তি এবং প্রক্রিয়াকরণ ফি একেবারে বিনামূল্যে পাবেন ।
  • একাধিক বাইক কেনার সুযোগ
  • সিটি ব্যাংক FDR এর বিপরীতে 90% ঋণ
  •  বয়সসীমা 21-65 বছর

Yamaha  বাইকে EMI সুবিধা

ইয়ামাহা বাইকের ব্যাপক  চাহিদা রয়েছে আমাদের বাংলাদেশের বাজারে।

অনেক গ্রাহক আছেন যারা ইয়ামাহা বাইকের ভক্ত তারা তাদের পছন্দের বাইকটি  বাজেটের অভাবে কিনতে পারেন না | 

বর্তমানে ইয়ামাহা বাইক কিস্তি সুবিধার মাধ্যমে ক্রয় করার অফার দিচ্ছে |

ইয়ামাহা ভক্তরা খুব সহজেই এখন এই বাইক কিনতে পারে ।

Yamaha  বাইকের জন্য EMI সুবিধা নেবার নিয়মকানুনগুলো জানুন

  • এই ব্র্যান্ডের নিজস্ব কোন বাইক লোনের সুবিধা নাই। City Bank ও EBL ( Eastern Bank Limited ) এর মাধ্যমে শুধু কিস্তি সুবিধা নেওয়া যায়।
  • ৬ মাসের কিস্তিতে কোন ইন্টারেস্ট (0% interest) দিতে হবে না। এছাড়াও বাকি কিস্তি সমুহে ACI Motors ৬ মাসের ইন্টারেস্ট বহন করবে।
  • বাইক কেনার ক্ষেত্রে নুন্যতম ৫০% ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে।
  • রেজিস্ট্রেশান চার্জ EMI-এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
  • ইন্সটলমেন্ট শিডিউল হবে ৫ ধরনের— ৬ মাস /৯মাস/১২ মাস/১৮মাস এবং ২৪ মাস।
  • ইয়ামাহার সকল ধরণের বাইক  EMI সুবিধার মাধ্যমে এখন ক্রয় করা সম্ভব। শুধু মাত্র নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার করে কমপক্ষে ৫০% ডাউন পেমেন্ট দিয়ে যেকোন বাইক কিনতে EMI সুবিধা পাবেন | 

প্রাইম ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক,যমুনা ব্যাংক , ব্রাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে শুধু EMI সুবিধা পাবেন | 

EMI নিয়ে সতর্কতা (cautions for EMI facility for bike in Bangladesh)

EMI কিস্তিতে কিংবা নগদে যেভাবেই মোটরসাইকেল কিনুন না কেন, কেনার আগেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করুন ।

ড্রাইভিং লাইসেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ | এটা ছাড়া এমন কারো কাছে মোটরসাইকেল বিক্রি করা আইনগত অপরাধ।

সময়সীমার মধ্যে EMI কিস্তির টাকা শোধ করতে প্রস্তুত থাকুন, নয়তো নানা বাধার সম্মুখীন হতে পারেন ।

মোটরসাইকেল কেনার সময় রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি ভালো করে সম্পূর্ণ করুন ।

দরকারি কাগজপত্র প্রমান সহ দেখাবেন। কোনরকম জালিয়াতি ধরা পড়লে জরিমানা হতে পারে। যার ফলে আপনার EMI সুবিধা বাতিল হবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

FAQs about the EMI facility for bikes in Bangladesh

১. বাংলাদেশের কোন কোন ব্যাংকে বাইকের জন্য লোন দেয়?

উঃ বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে দি সিটি ব্যাংক(city bank bike loan), ইস্টার্ণ ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, HSBC লিমিটেড, প্রাইম ও ব্র্যাক ব্যাংক (brac bank bike loan), এরা বিশেষ ভাবে মোটরসাইকেল ঋণ দিতে নতুন সেবা চালু করেছে। আগ্রহী গ্রাহকদের বেশ বড় সুযোগ এনে দিয়েছে এই মোটরসাইকেল বা বাইক ঋণ।

২.  বাইক লোন নিতে হলে কি কি কাগজের দরকার হয়?

উঃ বাইক লোন নিতে হলে গ্রাহককে কিছু ডকুমেন্টস দেখাতে হবে। যেমন  মাসের মাসিক ইউটিলিটি বিল, গ্যারান্টার,  এনআইডি বা পাসপোর্ট এবং পূর্ববর্তী ৩ থেকে ৬ মাসের একটি সক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যাংক বিবরণী ইত্যাদি আরও কিছু তথ্য। 

ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স সরবরাহ করতে হবে। যারা চাকরি করেন তাদের বেতনের স্টেটমেন্ট এবং বেতনের সার্টিফিকেট সরবরাহ করতে হবে। নগদ / ব্যাংক আমানত / রকেট / বিকাশের মাধ্যমে আপনি টাকা প্রদান করতে পারবেন।

৩. Suzuki বাইক-এর EMI এ নিতে হলে কোন ব্যাংকে যোগাযোগ করব?

উঃ বাংলাদেশের বাজারে জাপানের বিখ্যাত ব্র্যান্ড Suzuki-এর অনেক রকম গুণমান সম্পন্ন বাইক রয়েছে। সিটি ব্যাঙ্কের বাইক লোনের মাধ্যমে আপনি সহজেই তাদের বাইক কিনতে পারবেন।

৪. Yamaha  বাইকের জন্য EMI এ কিনতে হলে কত ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে?

উঃ Yamaha  বাইক কেনার ক্ষেত্রে নুন্যতম ৫০% ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে।

৫. রেজিস্ট্রেশন চার্জ কি EMI-এর অন্তর্ভুক্ত?

উঃ না। রেজিস্ট্রেশান চার্জ EMI-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এই সম্পর্কে তথ্য জানতে ভিজিট করুন এই bikroy.com পেইজে।

Similar Advices



Leave a comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.