কী কী উপায়ে আপনার বাইকের যত্ন নিবেন

29 Mar, 2023   
কী কী উপায়ে আপনার বাইকের যত্ন নিবেন

মোটরসাইকেল জিনিসটা আসলে বেশ সহজ সরল একটা মেশিন। গাড়ির তুলনায় এর চাকা, সিট, ইলেকট্রনিক্স কিংবা মেকানিক্যাল, সবই পরিমাণে অল্প। কিন্তু সহজ সরল এই বাইক মেইন্টেইনেন্স এর কথা চিন্তা করলেই আমাদের মধ্যে একরকম আতংক এসে ভর করে।

মোটরসাইকেল সারানোর চেষ্টা করতে গিয়ে উল্টা নষ্ট হবে না তো? খরচ না জানি কত বেশি পড়ে! রাস্তায় নামার পর হঠাৎ যদি ঝামেলা হয়? অনেক শখ করে কেনা বাইকের জন্য এত রকম দুশ্চিন্তা হওয়াটা অস্বাভাবিক না। তবে মোটরসাইকেল মেইন্টেইনেন্স এর উপর যদি আপনার বেশ ভালো একটা বেসিক পড়াশুনা হয়ে যায়, তাহলে ভয়কে জয় করাও সহজ হয়ে যাবে।

আজ আমরা জানবো ধাপে ধাপে মোটরসাইকেলের যত্ন, কতদিন পর পর কী বদলাতে হবে, মেইন্টেনেন্সের অভাবে কী কী সমস্যা হতে পারে, হঠাৎ বাইক বন্ধ হয়ে গেলে কি করবেন ইত্যাদি সব খুঁটিনাটি বিষয়।

বাইকের যেই জিনিসগুলো পরিবর্তন বা মেরামত করা লাগে

মোটরসাইকেলের কিছু অংশ বাকি জিনিসের চেয়ে বেশি ও বারবার মেরামত বা পরিবর্তন করতে হয় এই জিনিসগুলোকে আমরা ‘বাইকের ভোগ্যবস্তু’ বা ‘কনজিউমেবলস’ বলে থাকিঃ

  • টায়ার
  • ব্রেক প্যাড
  • বাইক ফ্লুইড (যেমন- ইঞ্জিন অয়েল, জ্বালানি ইত্যাদি)
  • ফিল্টার, বিশেষ করে তেল ও এয়ার ফিল্টার
  • চেইন – এই জিনিস হয়ত সব সময় পাল্টানো লাগে না, কিন্তু নিয়মিত চেক করা ও লুব্রিক্যান্ট (লুব) দেয়া

এই ৫টি জিনিস অধিক হারে ক্ষয়, নষ্ট বা যত্নের প্রয়োজন হয়। তাই যেকোনো মেইন্টেইনেন্স রুটিন চেক-আপে এই জিনিসগুলো গুরুত্ব দিয়ে চেক করা আবশ্যক।

নিয়মিত মোটরসাইকেলের যত্ন

আপনার মোটরসাইকেলের যত্নে এমন কিছু কাজ আছে যা আপনাকে নিয়মিত করতেই হবে। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে প্রতিদিন ৫ টি স্টেপ মেনে আপনার বাইক অবশ্যই চেক করতে হবে। (লিঙ্ক থাকবে প্রতিদিন যত্নের ব্লগ)

ঠিক কতদিন পরপর নিয়ম করে মোটরসাইকেলের মেইন্টেইনেন্স করতে হবে তা নির্ভর করে আপনার বাইকটি কী ধরণের, কতদিন পরপর, কোনো ধরণের কাজে, এবং কীভাবে আপনার মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন ইত্যাদির উপর। যিনি প্রতিদিন বাইক ব্যবহার করেন, তার মেইন্টেনেন্স একরকম; অনেকদিন পরপর ব্যবহার করলে সেটা অন্যরকম। শহুরে রাস্তায় চলা বাইকের যত্ন একরকম, আর হাইওয়েতে চলা বাইকের যত্ন ভিন্নরকম। আবার যারা রেস বা স্টান্ট করেন তাদের বাইক আর বাইকের যত্ন সবই ভিন্ন ধরণের।

সবার আগে নজর দেবেন আপনার মোটরসাইকেলের ম্যানুয়ালে। এটি সরাসরি আপনার বাইক প্রস্তুতকারকের পরামর্শ; তাই এতে আপনার মোটরবাইকের জন্য উপযুক্ত সব রকম তথ্য ও বেসিক মেইন্টেইনেন্স রুটিন পেয়ে যাবেন। এখানে একটা নির্দিষ্ট সময় বা মাইলেজ পরপর সার্ভিসিং করার কথা উল্লেখ থাকবে। মনে রাখবেন, এই হিসাবটা তাত্ত্বিক, আপনার ব্যবহারের ভিত্তিতে কিছুটা কম বেশি হতেই পারে।

আপনাদের বুঝার সুবিধার জন্য আমরা সময়ের হিসাবে মোটরসাইকেলের মেইন্টেইনেন্সকে ৩ ভাগে ভাগ করেছি – নিত্যদিন/সাপ্তাহিক, মাসিক অর্থাৎ রুটিন চেক-আপ, এবং বাৎসরিক তথা পর্যায়ক্রমিক মেইন্টেইনেস। 

নিত্যদিন/ সাপ্তাহিক মোটরসাইকেল মেইন্টেইনেন্স রুটিন

প্রত্যেকবার রাইড শুরু করার আগে মোটরবাইকের চারপাশ ঘুরে দেখতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট, কিন্তু সামান্য সময় আর যত্ন আপনার জীবন বাঁচাতে পারে! মেইন্টেইনেন্সের বেশিরভাগ অংশ শুধুমাত্র চোখে দেখেই পরীক্ষা করা সম্ভব। আপনার বাইক বন্ধ অবস্থা থেকে চালু করার পর ইঞ্জিন অয়েল সহ সব রকম ফ্লুইড নিজ নিজ জায়গায় পৌঁছাতে অন্তত ৩০ সেকেন্ড সময় লাগে। তার আগেই থ্রটল ঘুরানো ঠিক না। বরং এই সময়টুকুতে এবং আপনার গ্লাভস, হেলমেট এসব পরে তৈরি হতে হতে নিচে উল্লেখ করা বেশিরভাগ জিনিস চেক করে নেয়া সম্ভব। তাই যত বেশি তাড়াই থাকুক না কেন, এই কাজগুলো কখনও অবহেলা করবেন না!

মোটরসাইকেল মেইন্টেইনেন্সে নিত্যদিনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ

  • বাইকের চারপাশ ভালোভাবে লক্ষ্য করা – কোনটা স্বাভাবিক আর কোনটা নয়, তা চোখে দেখে অনেকটাই বোঝা যায়।
  • টায়ার প্রেশার চেক করা ও সেটা ঠিক রাখা
  • টায়ারের খাঁজে ক্ষয় পরীক্ষা করা
  • চেইন পরীক্ষা এবং পরিষ্কার করা
  • ইঞ্জিন অয়েলের লেভেল চেক করা এবং সময়মতো ভরে নেয়া
  • ব্রেক প্যাডগুলো চেক করা
  • ফিল্টারগুলো চেক করা
  • ব্যাটারি চেক করা
  • মোটরসাইকেল ভালোভাবে পরিষ্কার করা

নিত্যদিনের অথবা সাপ্তাহিক মেইন্টেইনেন্স মূলত এইটুকুই। যদি কোনো রকম সমস্যা চোখে না পড়ে, তাহলে নিশ্চিন্তে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। মোটরসাইকেল চালানো অবস্থায় বাইকের আওয়াজ কেমন শোনাচ্ছে, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। ক্লিক করে আওয়াজ, ঠুং বা ঠকঠক যেকোনো অস্বাভাবিক শব্দ, কিংবা কোনো কিছু বন্ধ হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ নিরাপদ জায়গায় বাইক থামিয়ে তদন্ত করে দেখা জরুরি।

মাসিক মোটরসাইকেল মেইন্টেইনেন্স/ রুটিন চেক-আপ

এই ধরণের মেইন্টেইনেন্সে মূলত বাইকের সবকিছুর ক্ষয় ও ক্ষতির পরিমাণ চেক করা হয়। এই চেক-আপের পর আপনার হয়ত ড্রাইভ চেইন এডজাস্ট করা, ইঞ্জিন অয়েল, ব্রেক ও কুল্যান্ট ফ্লুইড রিফিল করা, ব্রেক প্যাড, অয়েল ও এয়ার ফিল্টার পালটানো ইত্যাদি টুকটাক কাজ করতে বা করাতে হবে। কি কি চেক করবেন তা নিচে উল্লেখ করছিঃ

  • ব্রেক, ক্লাচ, কুল্যান্ট এবং ইঞ্জিন অয়েলের লেভেল চেক করে দেখুন। নিজে করতে চাইলে ম্যানুয়াল দেখে করুন, অথবা একজন মেকানিকের সাহায্য নিন।
  • ইঞ্জিন অয়েল লেভেল চেক করার জন্য ডিপস্টিক তুলে অথবা সাইট গ্লাস দিয়ে দেখাই যথেষ্ট। মোটরসাইকেল সোজা রেখে ইঞ্জিন গরম থাকা অবস্থায় অয়েল লেভেল মাপলে সবচেয়ে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। মোটামুটিভাবে, প্রতি ৫০০০ মাইল পরপর ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করতে হয়।
  • ব্রেক প্যাড কতটা পুরু রয়েছে বা কতটা ক্ষয়ে গেছে তা চেক করুন। একটি অথবা দু’টি, যেই প্যাডই চোখের দেখায় বেশ পাতলা বা এবড়ো থেবড়ো মনে হোক না কেন, দু’টোই পালটে ফেলুন। কারণ এগুলো এমনিতেও জোড়ায় কিনতে হবে।
  • চেইন ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। স্ট্যান্ডের সাহায্যে পেছনের চাকা মাটির থেকে কিছুটা উপরে উঠানো গেলে এই কাজটা আরো সহজ হয়ে যাবে। চেক করার পাশাপাশি এটা পরিষ্কার করে নিলে কাজ আরো এগিয়ে যাবে।
  • অয়েল এবং বিশেষ করে এয়ার ফিল্টার চেক করুন। সর্বশেষ ফিল্টার পাল্টানোর সময় মাইলেজ কত ছিলো সেটা লিখে রাখেন, তাহলে বাইকের পার্টস খোলাখুলি ছাড়াই শুধুমাত্র মাইলেজ দেখে হিসাব রাখতে পারবেন। ইঞ্জিন অয়েল কতটুকু আছে নিয়মিত সেটা চেক করুন। সাধারনত অয়েল পাল্টানোর সময় ফিল্টারও বদলাতে হয়। এই ব্যাপারে মেকানিকের সাহায্য নিন।
  • সবরকম তার পরীক্ষা করে দেখুন। যেন কোনো দিক থেকে কিছু বের হয়ে বা ছুটে না থাকে।
  • মোটরবাইকের যত জায়গায় কিছু ঘুরানো যায়, সেই সব জায়গায় চেক করে করে লুব দিন। এর মধ্যে আছে কিকস্ট্যান্ড, সুইং আর্ম এবং বিয়ারিং।
  • আগের দিনের বাইকের তুলনায় আধুনিক বাইকগুলোর ব্যাটারি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য আর মানসম্মত হয়। এগুলোর জন্য কোন রকম মেইন্টেইনেন্স লাগে না বললেই চলে। তবুও দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হলে ব্যাটারির কানেকশন ঠিক আছে কি না, কিছু ক্ষয় হয়েছে কি না, এবং চার্জ কতটুকু আছে এগুলো একটু চেক করে নিন।
  • যাবতীয় নাট, বল্টু, স্ক্রু ইত্যাদি মাঝে মাঝে চেক করে দেখা প্রয়োজন। কেননা দিনের পর দিন মোটরসাইকেলের ভাইব্রেশনের কারণে অনেক কিছু ঢিলে হয়ে যেতে পারে। সবকিছু টাইট ভাবে আটকানো কি না তা মাসে একবার অন্তত চেক করে নিন।
  • ভালোভাবে টায়ার পরীক্ষা করুন। প্রেশার দেখার পাশাপাশি খাঁজের গভীরতা কয়েন দিয়ে চেক করুন। রাবারের অংশে কোথাও কোন ফুটো, ক্ষয়, কিংবা পাথর বা লোহার টুকরা আটকে আছে কি না, রাবার গলে যাচ্ছে কি না এগুলো লক্ষ্য করুন। বেশিরভাগ টায়ার প্রায় ৫ বছর পর্যন্ত সার্ভিস দিতে পারে। কিন্তু অনেক বেশি অথবা হাই স্পিডে চালানো হলে বা কর্ণারিং করা হলে আরো দ্রুত সেগুলো বদলানোর দরকার পড়বে।

বাৎসরিক তথা পর্যায়ক্রমিক মেইন্টেইনেন্স

এতক্ষণ যা কিছু উল্লেখ করলাম, এর মধ্যে বেশিরভাগ আপনি নিজেই পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন। এসবের বাইরেও মোটরবাইকে আরো অনেক অটো পার্টস আছে যেগুলো নড়াচড়া করে, এবং বছরে অন্তত একবার এগুলো চেক করা আবশ্যক। এই বাৎসরিক বা পর্যায়ক্রমিক মেইনটেইনেন্সগুলো একটা ভালো মোটরবাইক সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে দক্ষ মেকানিকের হাতে করিয়ে নিনো উচিত। আপনার করণীয় হচ্ছে এই জিনিসগুলো ভালোভাবে জেনে রাখা, যাতে মেকানিক কী কী করবেন সেটা বুঝতে পারেন।

ইঞ্জিন 

  • এয়ার ফিল্টারঃ প্রতি ১০,০০০ মাইল চালানো অথবা প্রতি বছর আপনার মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার পালটানো দরকার। ধুলাবালি ও কাদামাখা রাস্তায় বেশি চালানো হলে আরো আগেই এই ফিল্টার বদলানো লাগবে।
  • ক্যাম চেইন মেইন্টেইনেন্সঃ ম্যানুয়ালে উল্লেখ করা সময় অনুযায়ী, অথবা বছরে একবার ক্যাম চেইনের মেইন্টেইনেন্স করিয়ে নিনো উচিত।
  • কার্বুরেটরঃ নিষ্ক্রিয় গতির জন্য প্রতি ৬ মাস পরপর কার্বুরেটর টিউন করতে হয়। বছরে ২-৩ বার কার্বুরেটর ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করা দরকার পড়ে। 
  • কুল্যান্টঃ আপনার বাইকে যদি রেডিয়েটর থাকে তাহলে সেটার কুল্যান্টও নির্দিষ্ট সময় পরপর পাল্টাতে হয়। প্রতি ২৫,০০০ মাইল, কিংবা ২ বছর পরপর পাল্টাতে হবে।
  • জ্বালানি ফিল্টারঃ নোংরা স্তর, বা কোথাও ব্লক সৃষ্টি হোক, বা না হোক, প্রতি বছর এই ফিল্টার পাল্টানো আবশ্যক।
  • ইঞ্জিন অয়েল এবং ফিল্টারঃ মিনারেল অয়েলের ক্ষেত্রে ৩,০০০ মাইলের কাছাকাছি, এবং সিনথেটিক অয়েলের ক্ষেত্রে ৫,০০০ মাইল পরপর ইঞ্জিন অয়েল ও ফিল্টার বদলাতে হবে।
  • জ্বালানি  ইঞ্জেকটরঃ প্রতি ৫০,০০০ মাইল পরপর জ্বালানি  ইঞ্জেকটর পরিষ্কার করুন।
  • ভালভ এডজাস্টমেন্টঃ ৩০,০০০- ৪০,০০০ মাইলের আশেপাশে ভালভ চেক করুন।

ফ্রেম অর্থাৎ বাইকের বডি 

  • বিয়ারিং গ্রিজ নিপলসঃ বছরে একবার গ্রিজ দিন।
  • স্টিয়ারিং হেড বিয়ারিংঃ ১৫,০০০-২০,০০০ মাইলের মধ্যে, অথবা ২ বছর পরপর লুব্রিকেশন দিন। যেই বিয়ারিংগুলো ভেতরে সীল করে দেয়া সেগুলো কিছু না করলেও চলবে।
  • সাব-ফ্রেমঃ বছরে অন্তত একবার সরাসরি দেখে পরীক্ষা করা দরকার।
  • সুইং আর্ম বিয়ারিংঃ ১০,০০০ মাইল পরপর অথবা বছরে একবার পরিষ্কার করা ও গ্রিজ দেওয়া প্রয়োজন।

মোটরসাইকেল পার্টস 

  •  ব্রেকঃ প্যাড বেশি ক্ষয় হয়ে গেলে বদলে ফেলুন।
  •  ব্রেক ক্যালিপার্সঃ প্রতি বছর অথবা ৮,০০০ মাইল পরপর পিস্টন ক্ষয় কিংবা লীক হচ্ছে কি না তা চেক করুন।
  • ব্রেক ফ্লুইডঃ প্রতি ৩,০০০-৬,০০০ মাইলের মধ্যে ব্রেক ফ্লুইড চেক করুন এবং ২ বছর পরপর পালটে ফেলুন।
  • ব্রেক লাইনঃ কোনো কোনো বাইক প্রস্তুতকারক কোম্পানি রাবারের ব্রেক লাইনগুলো ৪ বছর পরপর বদলানোর পরামর্শ দেন। তার পেঁচানো হোজগুলো ৬-১০ বছর পরপর পালটে ফেলুন। 
  •  ড্রাইভ চেইনঃ প্রতি ১,০০০ মাইল পরপরই পরীক্ষা করা, লুব দেয়া ও এডজাস্ট করা উচিত।
  •  টায়ারঃ নিয়মিত টায়ারের খাঁজ পরীক্ষা করুন। আগে কখনো বদল না করা হলেও, ৫-৬ বছরের পর বদলে ফেলুন। ১২ সপ্তাহের বেশি কোনো মোটরসাইকেল যদি এক জায়গায় পড়ে থাকে, তাহলে এর টায়ার ড্রাই রট বা গলে যেতে পারে। ৪ সপ্তাহ পরপরই রাবারের রং চটে যাচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করুন।
  •  চাকা বিয়ারিং এবং সীলঃ ১০,০০০ মাইল পর অথবা প্রতি বছর একবার পরীক্ষা করিয়ে নিন।
  •  চাকাঃ প্রয়োজন অনুযায়ী স্পোকগুলো চেক ও এডজাস্ট করে নেবেন।

সাসপেনশন 

  • ফোর্ক অয়েল এবং সীলঃ ১৫,০০০ মাইল অথবা ২ বছর পরপর বদলে ফেলুন।
  • পেছনের সাসপেনশন লিংকেজঃ ৬-১২ মাস পরপর অথবা ৮,০০০ মাইল অন্তর সার্ভিসিং করিয়ে নিন।

ইলেকট্রনিক্স 

  • ব্যাটারিঃ সীসা/এসিড টাইপ ব্যাটারির ক্ষেত্রে প্রতি ৪ সপ্তাহ এবং জেল টাইপের ক্ষেত্রে প্রতি ১২ সপ্তাহ পরপর চেক করিয়ে নিন। ব্যাটারি টার্মিনাল, ক্ল্যাম্প, কেবল তার এবং স্ক্রু ইত্যাদি সবকিছু ক্ষয় যাচ্ছে কি না, ভেঙ্গে বা নষ্ট হচ্ছে কি না, কানেকশন ঢিলা হয়ে গেছে কি না, এই সবকিছু চেক করিয়ে নিন।
  • হেড লাইট, টেইল লাইট ও ইন্ডিকেটরঃ প্রতি বছর অথবা ৮,০০০ মাইল অন্তর পরীক্ষা করিয়ে নিন।
  •  স্পার্ক প্লাগঃ ৪,০০০-৫,০০০ মাইল অন্তর চেক করিয়ে নিন। ৮,০০০-১০,০০০ মাইল পর পালটে ফেলুন।
  •  তারের বর্ম/ হার্নেসঃ ৮,০০০ মাইল পর অথবা প্রতি বছর পরীক্ষা করিয়ে নিন। 

সময়মত মেইন্টেইনেন্স করানো না হলে যেসব সমস্যা হতে পারে

রুটিনমাফিক মেইন্টেইনেন্স এবং নিজে থেকে নিয়মিত চেক-আপ ও যত্ন না করলে বেশ কিছু সমস্যা আপনার বাইকে দেখা দিবে। অনেক সময় এর থেকে মারাত্মক দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। মেইন্টেইনেন্সের গুরুত্ব বুঝার জন্য কী কী সমস্যা বা বিপদ আসতে পারে তা নিচে উল্লেখ করছিঃ

  • টায়ারঃ ভালো টায়ারে খাঁজ ক্ষয় বোঝার জন্য চিহ্ন দেয়া থাকে। এই চিহ্নের চেয়ে গভীরে ক্ষয় পৌঁছে গেলে আপনার মোটরসাইকেলের গ্রিপ শেষ হয়ে যাবে এবং টায়ারগুলো ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
  • চেইনঃ চেইন জিনিসটা দেখতে অনেক শক্ত, মজবুত মনে হলেও, গতি বৃদ্ধি বা ত্বরণের সাথে এগুলো টান খেয়ে লম্বা হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও রাস্তার ধূলা-ময়লা এর রোলারগুলোকে দিন দিন নষ্ট করে ফেলবে। চেইন অনেক বেশি ঢিলে হয়ে গেলে, আর সেটা ঠিক করা না হলে চলমান অবস্থায় স্প্রোকেট থেকে লাফিয়ে পড়ে পেছনের চাকা আটকে যাবে। ঠিকভাবে লুব্রিকেশন না দেয়া হলে চেইনের ঘর্ষণে স্প্রোকেট অনেক দ্রুত ক্ষয় হয়ে যাবে।
  • ব্রেক প্যাডঃ যদি আপনার ব্রেক প্যাড অনেক পাতলা হয়ে যায়, আর আপনি সেটা বদলে না দেন, তাহলে যেকোনো মূহুর্তে ব্রেক ফেইল করার ঝুঁকিতে থাকবেন। এর পেছনে থাকা ধাতব ব্যাকিং প্লেট আপনার ডিস্কগুলোর সাথে ঘষা খাবে এবং ডিস্কের মারাত্মক রকম ক্ষতি হবে।
  • ইঞ্জিন অয়েলঃ মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল আপনার বাইক ইঞ্জিনের ভেতরে থাকা দ্রুতগতির পার্টসগুলোকে নিরাপদ ও চলমান রাখে। সময়ের সাথে এই অয়েল পাতলা হয়ে আসে এবং বাইরের ময়লা দ্বারা দূষিত হয়ে পড়ে। এরকম অবস্থায় অয়েল না বদলালে, ইঞ্জিন ওভারহিট হয়, পাওয়ার চলে যায়, এবং একটা সময় ইঞ্জিন ফেইলও করতে পারে।
  • অয়েল ফিল্টারঃ অয়েল ফিল্টারের একাধিক লেয়ার আপনার অয়েল থেকে ধাতব কণা ও বাইরে থেকে আসা দূষণগুলোকে ছেঁকে আলাদা করে ফেলে। এই ফিল্টারে বেশি ময়লা জমে আটকে গেলে, ইঞ্জিন অয়েল খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।
  • জ্বালানি  ফিল্টারঃ এই ফিল্টার নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিষ্কার করতে যদি ভুলে যান, তাহলে ট্যাংকের ভিতরে ময়লা এবং কণা জমতে শুরু করবে। ফলে, একটা সময় ট্যাংকের ভেতর জ্বালানি  আর ঠিকমত চলাফেরা করতে পারবে না।
  • এয়ার ফিল্টারঃ আপনার ইঞ্জিনের এয়ার ফিল্টার ধূলা-ময়লায় বদ্ধ হয়ে গেলে ইঞ্জিনের দহন বা কম্বাস্টন চেম্বারে বাতাসের চলাচলে সমস্যা হবে। এরকম অবস্থায় ফিল্টার না বদলানো হলে হঠাৎ করে স্পিড কমে গিয়ে টিকওভার এবং পাওয়ার লস হতে পারে।

সত্যি বলতে মোটরসাইকেলের যতগুলো জায়গায় যতরকম কানেকশন আছে, যতগুলো পার্টস একে অপরের সংস্পর্শে থেকে কাজ করে, সবগুলোর ক্ষেত্রে গল্পটা ঠিক একই রকম। এই সংস্পর্শে থাকা জায়গাগুলোতে লুব্রিকেশন ভালোভাবে না দেয়া থাকলে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়, সেখানে থেকে তৈরি হয় ক্ষয়, নয়ত তাপ; আর সেই তাপ থেকে নষ্ট হয় সবকিছু। ঘর্ষণের কারণ যেটাই হোক না কেন, ঘুরেফিরে ফলাফল একই। লম্বা সময় এরকম চলতে দিলে ঐ পার্টসটা শেষমেশ ফেইল করে।

হঠাৎ বাইক বন্ধ হয়ে গেলে কী করবেন?

অনেক সতর্ক থাকার পরও রাস্তায় যেকোনো সময় হঠাৎ বিপদ চলে আসতেই পারে। সাধারণভাবে একটা বাইক চালু থাকার জন্য নিচের চারটি জিনিস ঠিক থাকা আবশ্যকঃ

  • বাতাস
  • জ্বালানি 
  • স্পার্ক
  • কমপ্রেশন

যদি আপনার বাইক হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তাহলে নিচের কিছু সহজ জিনিস শুরুতেই চেক করে নিন-

  • আপনার ট্যাংকে যথেষ্ট জ্বালানি  আছে কি?
  • আপনার এয়ার ফিল্টার কি বদ্ধ হয়ে আছে? এয়ারবক্সে পানি ঢুকেছে?
  • আপনার বাইকের স্পার্ক প্লাগের অবস্থা ভালো তো?
  • ব্যাটারি কি ঠিক আছে?

আপনার বাইক যদি কোনভাবেই স্টার্ট না নেয়, তাহলে চেক করুনঃ

  • ভুলক্রমে কিল সুইচ অন হয়েছে কি না।
  • ব্যাটারি কানেকশন ঠিক আছে কি না।
  • স্পার্ক প্লাগে স্পার্ক হচ্ছে কি না।

মোটরসাইকেল স্টার্ট দেয়ার সাথে সাথে থ্রটল হ্যান্ডেল ঘোরাবেন না। নয়ত ইঞ্জিনে পানি ঢুকে নষ্ট হতে পারে। ইঞ্জিন স্টার্ট দেয়ার পর অন্ততপক্ষে ৩০ সেকেন্ড সময় অপেক্ষা করা উচিত, এই সময়ের মধ্যে বাইকের ফ্লুইডগুলো যার যার জায়গায় ঠিকমত পৌঁছে যাবে। 

উপসংহার

নিয়মিত মোটরসাইকেল মেইন্টেইনেন্সের একটা রুটিন মেনে চললে এবং আমাদের এই চেকলিস্টের জিনিসগুলো একটু একটু করে শিখে নিলে, আপনার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়বে। তখন আর ছোটখাটো জিনিসের জন্য বারবার মেকানিকের কাছে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না; একই সাথে জরুরি পরিস্থিতির সময়ও মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে পারবেন।

মনে রাখবেন, নির্দিষ্ট সময় পরপর (বছরে অন্তত একবার) আপনার বাইকের ফুল সার্ভিসিং একজন দক্ষ মেকানিকের হাতেই করাতে হবে। এর মাঝে ছোটখাটো সমস্যাগুলো নিজে একটু একটু করে ঠিক করা শিখে নিলে অনেক খরচ ও সময় বেঁচে যাবে।

হ্যাপি রাইডিং!

গ্রাহকদের নিয়মিত কিছু প্রশ্নের উত্তর

মোটরসাইকেল সারাতে কেমন খরচ পড়ে?

একেক বাইকের ক্ষেত্রে খরচ একেক রকম। আপনার বাইকের মডেল, কোন কোন পার্টস নষ্ট বা পুরনো হয়েছে, ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের ভিত্তিতে এই খরচ কম বা বেশিও হতে পারে। যেই পার্টসগুলো বদলাতে হবে, তার দাম, নিকটস্থ সার্ভিসিং সেন্টারে সার্ভিস চার্জ কত, এই সবকিছু মিলিয়ে খরচ হিসাব করতে পারেন। অনলাইনে সার্ভিসিং সেবার খরচ জানতে ও তুলনা করে দেখতে চাইলে ভিসিট করুন Bikroy -এর অটো সার্ভিস পোর্টালে।

কতদিন পরপর মোটরবাইক মেইন্টেনেন্স করাবো?

এটা নির্ভর করে আপনার বাইকের মডেল এবং কীভাবে ব্যবহার করছেন তার উপর। তবে, সাধারণভাবে আপনার বাইকের রুটিন চেক-আপ ও সার্ভিসিং প্রতি ৫০০-৬০০ মাইল, অথবা ৬মাস পরপর করানোর প্রয়োজন হয়।

আমার মোটরসাইকেলে কী কী সমস্যা হতে পারে?

মোটরবাইকে যতরকম পার্টস আছে, সবই কোনো না কোনো সময় পালটানো লাগে। তবে সবার কিছু কমন সমস্যা হচ্ছেঃ

  • পুরনো বাইকের জ্বালানি ট্যাংকে জং ধরা
  • নানা রকম বাইক ফ্লুইড লীক করা, বিশেষ করে ইঞ্জিন অয়েল ও ফোর্ক অয়েল
  • কার্বুরেটর নষ্ট হওয়া
  • টায়ার পাংচার অথবা ক্ষয়
  • ব্রেক লাইন ছুটে যাওয়া
  • হেডলাইট বা আয়না ভেঙে যাওয়া, ইত্যাদি

মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন কীভাবে নষ্ট হয়?

বিভিন্ন রকম কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেঃ

  • ইথানল ভিত্তিক গ্যাসোলিন ব্যবহার
  • এক ইঞ্জিন অয়েল বেশিদিন ব্যবহারে ময়লা মিশে জমাট বাধা
  • ইঞ্জিন অয়েল শুকিয়ে যাওয়া
  • ইঞ্জিন গরম হওয়ার আগেই স্টার্ট দেয়া
  • সঠিক সময়ে মেইন্টেইনেন্স না করানো

বাইকের ইঞ্জিন নষ্ট হলে কীভাবে বুঝবো?

ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেলে তো বাইকে পাওয়ার লসই হবে। তবে নষ্ট হওয়ার আগেই কিছু উপসর্গ দেখা দেয়ঃ

  • জ্বালানী দক্ষতা কমে যাওয়া
  • অদ্ভুত গন্ধ
  • বিকট আওয়াজ
  • ইগনিশন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ইঞ্জিন চলা, ইত্যাদি

Similar Advices

New Bikes for Salebikroy
Dayang AD-80s 2012 for Sale

Dayang AD-80s 2012

20,000 km
MEMBER
Tk 33,000
14 minutes ago
GOLF kart 6 seater 2023 for Sale

GOLF kart 6 seater 2023

0 km
verified MEMBER
Tk 1,065,000
6 days ago
Runner Freedom F100-6A 2023 for Sale

Runner Freedom F100-6A 2023

0 km
verified MEMBER
verified
Tk 77,900
21 hours ago
Honda SP125 2024 for Sale

Honda SP125 2024

320 km
MEMBER
Tk 175,000
1 day ago
TVS Apache RTR 2021 for Sale

TVS Apache RTR 2021

25,600 km
verified MEMBER
verified
Tk 122,000
1 day ago
Used Bikes for Salebikroy
Dayang Runner Other Model DURANTA 2019 for Sale

Dayang Runner Other Model DURANTA 2019

60 km
MEMBER
Tk 19,999
13 minutes ago
TVS Apache RTR 150cc 2007 for Sale

TVS Apache RTR 150cc 2007

55,000 km
MEMBER
Tk 45,000
15 minutes ago
Suzuki Hayate ONE TEST 2023 for Sale

Suzuki Hayate ONE TEST 2023

13,000 km
verified MEMBER
verified
Tk 80,000
1 day ago
Bajaj Platina . 2021 for Sale

Bajaj Platina . 2021

11,500 km
verified MEMBER
Tk 85,000
1 hour ago
Bajaj Discover 135 2010 2024 for Sale

Bajaj Discover 135 2010 2024

73,000 km
MEMBER
Tk 100,000
1 hour ago
+ Post an ad on Bikroy