মোটরসাইকেল ক্লাচঃ যেভাবে ঠিকঠাক রাখবেন বাইকের ক্লাচ

মোটরসাইকেল ক্লাচঃ যেভাবে ঠিকঠাক রাখবেন বাইকের ক্লাচ

বাইকের Clutch কী? কেন ক্লাচ গুরুত্বপূর্ণ? 

ক্লাচ (bike clutch এর ) এমন একটি যন্ত্রাংশ যা ইঞ্জিনের সাথে সংযুক্ত থেকে ইঞ্জিনের শক্তিকে গিয়ারবক্স থেকে চাকায় পৌঁছে দেয়।

সুতরাং আপনার বাইক সচল রাখায় ক্লাচের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আবার আপনি যখন ক্লাচ লিভারে চাপ দেন, তখন ইঞ্জিন থেকে ক্লাচ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে করে ইঞ্জিনের শক্তি আর গিয়ারবক্স বা চাকায় পৌঁছায় না।

এভাবে ক্লাচ আপনার গাড়ির টর্ক, স্পিড পরিবর্তনে বা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি বাইকের ইঞ্জিন বন্ধ না করেই বাইককে ধীরে সুস্থে থামিয়ে দিতে সাহায্য করে।

Motorcycle Clutch Maintenance কেনো করতে হবে?

ক্লাচ যেভাবে কাজ করে তা থেকে বুঝতেই পারছেন ক্লাচ নিয়ন্ত্রণ করা কেনো এতোটা জরুরী। ক্লাচ ঠিক না থাকলে আপনি সঠিকভাবে আপনার গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

এটি জ্যাম হয়ে গেলে বাইকের এক্সেলারেশন, টপ স্পিডেও এর প্রভাব পরবে। সুতরাং সুন্দরভাবে নির্দ্বিধায় বাইক চালানোর জন্য ক্লাচের অবস্থা ঠিকঠাক রাখা খুবই জরুরী।

কিভাবে বুঝবেন ক্লাচ মেইন্টেইনিং এর সময় এসেছে?

ক্লাচ বেশি শুষ্ক অথবা বেশি ভেজা থাকার কারণে আপনার বাইক চালানোর এক্সপিরিয়েন্স বা অভিজ্ঞতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আপনার বাইকের মডেল অনুসারে কিছু ভিন্নতা আসতে পারে।

কিন্তু আপনি যদি দেখেন ইঞ্জিন আরপিএম বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু সে অনুসারে আপনি তেমন স্পিড পাচ্ছেন না, তাহলে বুঝে নিতে পারেন আপনার ক্লাচটি হয়তো বেশি শুকিয়ে গেছে।

একই সাথে আপনি যদি দেখেন আপনার ক্লাচ লিভার খুবই শক্ত হয়ে আছে, আপনি ভালোমতো চাপ দিতে পারছেন না, অথবা গিয়ার পরিবর্তন করতে সমস্যা হচ্ছে, অথবা বাইক চালানোর সময় বেশ শব্দ বা কাপাকাপি হচ্ছে, আপনি ধরে নিতে পারেন হয়তো ক্লাচের খারাপ অবস্থার কারণেই এমনটা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি যদি দেখেন আপনি হাই গিয়ারে গতি বাড়িয়েছেন এবং বাইক ইঞ্জিনের আরপিএমও বাড়ছে, কিন্তু তারপরেও বাইকে মোটেই আশানুরূপ স্পিড পাচ্ছেন না, তাহলে ধরে নিতেন পারেন এটি অবশ্যই ক্লাচের কোনো ত্রুটির কারণেই হয়ে আসছে।

Tips for Motorcycle Clutch Maintenance

ক্লাচ (Clutch) ভালো রাখার একটি প্রধান শর্ত হলো ভালো মানের ইঞ্জিন অয়েল (engine oil) ব্যবহার করতে হবে।

ইঞ্জিনের ভিতরে ক্লাচ প্লেট, পিস্টন, খুচরা যন্ত্রাংশ ইঞ্জিন অয়েলের সাথে সম্পর্ক রাখে। ভালো মানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার না করলে ক্লাচ প্লেট যথেষ্ট মসৃণ হয় না এবং ঘর্ষণের কারণে দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায়।

ইঞ্জিন অয়েল আপনার ইঞ্জিনের ভেতরের ধাতব যন্ত্রাংশগুলোর ঘর্ষণের কারণে যে ক্ষয় হয়, তা থেকে ক্লাচ সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশকে রক্ষা করে।

ক্লাচ লিভার (Clucth Lever)

কখনও বাইক হ্যান্ডেল এর সাথের ক্লাচ লিভার ফুল টাইট দিয়ে বাইক রাইড করবেন না। ক্লাচ লিভার ফুল টাইট করে রাখলে অতিরিক্ত টান হওয়ায় ক্লাচ দ্রুত ক্ষয় হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

এটি একটু লুজ রাখা ক্লাচের জন্য উপকারী হবে। সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিলিমিটার হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ডে ক্লাচ লিভারের ফ্রি-প্লে (আঙুল দিয়ে চাপ দেওয়ার পরে যে পর্যায়ে গিয়ে ক্লাচ লিভারটি টাইট হওয়া শুরু হবে)।

আপনি এই স্ট্যান্ডার্ডে অভ্যস্ত হয়ে থাকলে এর চাইতেও বেশি টাইট দেওয়া কখনই উচিত নয়।

ক্লাচ-ক্যাবল (Clucth Cable)অ্যাডজাস্টমেন্ট অপশন- ইঞ্জিনের কাছাকাছি ক্লাচের সাথে সংযুক্ত ক্যাবলটি আপনার ক্লাচ হ্যান্ডেল কতোটা টান টান থাকবে তা নির্দেশ করে।

এখানে তারের সাথে যে নাটটি থাকে, সেটি ক্লাচের অনেক দিনের ব্যবহার বা ক্ষয়ের কারণে ধীরে ধীরে বেশ কিছুদিন পরে সরে আসতে পারে (বাইকের ধরণ অনুযায়ী ডানের দিকে, বা উপরের দিকে) এবং তারের অংশটি বেড়ে যেতে পারে (যে অংশটি সাধারণত রাবারের টিউবের ভেতরে থাকে)।

এটিকে খুব বেশি টাইট দেওয়াও অনুচিত হবে, কারণ এতেও ক্লাচের উপর ঘর্ষণ অনুভূত হয়, ক্লাচের ক্যাবল-এ টান পরে এবং ক্ষয় বৃদ্ধি পায়।

বলে রাখা ভালো, ক্লাচ প্লেট ক্ষয় হবেই, এবং হয়ে আপনার হ্যান্ডলের সাথে অ্যাডজাস্ট করে নিতে হবে।

যখন এই অ্যাডজাস্টমেন্ট খুব বেশি শক্ত অথবা খুব বেশি লুজ হয়ে পরে, তখনই আপনি এই ক্লাচ-ক্যাবল অ্যাডজাস্ট করাটা বুদ্ধিমানের কাজ।

এটি আপনি এক-দুই মাস পরপর করতে পারেন। যদি বুঝতে পারেন যে আপনার বাইক স্টার্ট নিতে সমস্যা করছে, অথবা ক্লাচ ঠিকঠাক কাজ করছে না, তখনই কেবল এটা অ্যাডজাস্ট করে নেওয়া ভালো।

অন্যথায় বারবার ক্লাচ-ক্যাবল টাইট কিংবা লুজ করাতে আপনার ক্যাবল ও ক্লাচ প্লেটে ঘর্ষণ ও টান বাড়ে। ফলে ক্লাচের দ্রুত ক্ষয় হবার সুযোগ বেড়ে যায়।

কম গিয়ারে বেশি স্পিডে বাইক চালানো এড়িয়ে চলা উচিত

গিয়ার পরিবর্তন করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে ক্লাচ সম্পূর্ণভাবে টানা হয়েছে কিনা। ক্লাচ ভালোভাবে না টেনেই গিয়ার পরিবর্তন করাতে অতিরিক্ত ঘর্ষণ সৃষ্ট হতে পারে যা আপনার ক্লাচের ক্ষয়ের কারণ হতে পারে।

এর সাথেসাথে খেয়াল রাখবেন গিয়ার পুরোপুরি পরিবর্তন হওয়ার আগেই যেনো আপনি ক্লাচ লিভার ছেড়ে না দেন, এতেও আপনার বাইকের ক্ষতি হবে। বেখেয়ালি বা অযত্নশীল হয়ে বাইক চালানো ক্লাচ, এমনকি রাইডারের বা চালকের জন্যেও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সর্বোপরি আপনার মনে রাখতে হবে, ভালো ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা, ইঞ্জিন লিভার খুব বেশি টাইট আছে কিনা, ফ্রি-প্লে স্ট্যান্ডার্ড লেভেলে আছে কিনা, ক্লাচ ক্যাবল খুব বেশি টানটান আছে কিনা, ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, এগুলো মাথায় রাখা এবং বাইকের অবস্থা বুঝে পর্যবেক্ষণে রাখা আপনার ক্লাচের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

আপনি অবশ্যই চাইবেন না আপনার বাইকের ক্লাচটি দীর্ঘ সময় আপনাকে সার্ভিস না দিয়েই ক্ষয় হয়ে যাক এবং বারবার আপনার ক্লাচ পরিবর্তন করা লাগুক।

সে কথাটি মাথায় রেখে আপনি অবশ্যই বেশি প্রয়োজন না হলে ক্লাচ ক্যাবল নাড়াচাড়া করবেন না। সেই সাথে চেষ্টা করবেন ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড মেনে বাইকের ক্লাচ লিভার ও ক্লাচ ক্যাবল পরিবর্তন করতে।

Motorcycle Clutch Maintenance: How To Repair Bikes Clutch – FAQs

১.কত কিলোমিটার পর পর motorcycle clutch মেইনটেনেন্স করা উচিত?

Answer: এইটার সহজ কোনো উত্তর নেই তবে ১০০০ কিলোমিটার পরপর ক্যাবল এডজাস্ট করানো উচিত।

২.ক্লাচ ক্যাবল কত কিলোমিটার পর পর চেঞ্জ করতে হয় ?

Answer: ৫০০০-৬০০০কিলোমিটার পর পর ক্লাচ ক্যাবল চেঞ্জ করা উচিত।

৩.ক্লাচ লিভার এ ফ্রীপ্লে কতটুকু থাকতে হবে ?

Answer: ক্লাচ লিভার এ ফ্রীপ্লে ১০-২০ মিলিমিটার থাকতে হবে।

৪.ক্লাচ ক্যাবল ছিড়ে গেলে কি করবো ?

Answer: ক্লাচ ক্যাবল ছিড়ে গেলে আরপিএম ম্যাচ করে ডাউনশিফট করে নিকটস্থ সার্ভিস সেন্টার এ নিয়ে যাবেন।

৫.কি করে বুঝবেন যে আপনার ক্লাচ ক্যাবল চেঞ্জ করার টাইম চলে এসেছে ?

Answer: ক্লাচ ক্যাবল ছোট হয়ে যাবে এবং ক্লাচ বেশ হার্ড হয়ে যাবে।

৬.motorcycle clutch plate এর প্রাইস কত ?

Answer: এইটা বাইক এর ব্র্যান্ড এর উপর নির্ভর করে।

Similar Advices